পাবনার স্কুলে বিএনপি নেতার মাদকাসক্ত ছেলের ছুরি হামলা, আতঙ্কে জ্ঞান হারাল শিক্ষার্থীরা
পাবনার স্কুলে বিএনপি নেতার ছেলের ছুরি হামলা, আতঙ্ক

পাবনার স্কুলে বিএনপি নেতার মাদকাসক্ত ছেলের ছুরি হামলা

পাবনার চাটমোহর উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিএনপি নেতার মাদকাসক্ত ছেলের ছুরি হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকালে হরিপুর ইউনিয়নের চড়ইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত নয়ন হোসেন (৩২) নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও ধারণ করতে বাধা পেয়ে ছুরি ও কাঁচি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তাড়া করে।

ভিডিও ধারণে বাধা পেয়ে শুরু হয় তাণ্ডব

সরেজমিনে জানা যায়, ওই দিন বিকালে স্কুল মাঠে শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলার অনুশীলন করাচ্ছিলেন কয়েকজন শিক্ষক। এ সময় হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কোফিল উদ্দিনের ছেলে নয়ন হোসেন স্কুলে প্রবেশ করে মোবাইলে নারী শিক্ষার্থীদের ভিডিও করতে থাকে। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তাকে বাধা দিলে নয়ন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে।

পরবর্তীতে স্থানীয় বাজার থেকে ধারালো ছুরি ও কাঁচি নিয়ে এসে নয়ন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায়। এ সময় স্কুলের ভেতরে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা দ্বিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। আতঙ্কিত অবস্থায় শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ঢুকিয়ে দেন এবং স্কুলের প্রধান ফটক তালা বন্ধ করে দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আতঙ্কে জ্ঞান হারায় শিক্ষার্থীরা

এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ভয় ও আতঙ্কে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। স্কুলের সহকারী শিক্ষক মাসুদ রানা জানান, "মেয়েরা তাকে ভিডিও করতে নিষেধ করেছিল। আমরা তাকে বাধা দিলে সে প্রথমে লাঠি দিয়ে হামলার চেষ্টা করে। পরে ছুরি, কাঁচি ও শিকল নিয়ে আবারও হামলা করে। আমরা শিক্ষার্থীদের ভেতরে রেখে ফটক আটকে দিই।"

স্কুলের বাইরে শত শত মানুষ জড়ো হলে নয়ন তাদেরও ছুরি ও কাঁচি নিয়ে ভয় দেখাতে থাকে। উত্তেজিত জনতা পুলিশের কাছে নয়নকে আটকের দাবি জানায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ চড়ইকোল বাজারে নয়নকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিএনপি নেতার বক্তব্য

হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কোফিল উদ্দিন তার ছেলের ব্যাপারে বলেন, "আমার ছেলেকে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেছিলাম, কিন্তু সে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারেনি। এলাকায় প্রতিপক্ষের অভাব নেই। তারা আমার ছেলেকে গাঁজা, মদসহ বিভিন্ন মাদক খাইয়ে এ অবস্থায় ফেলেছে। এখন তাকে নিয়ন্ত্রণ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আইনগত ব্যবস্থা যেটা হয়, সেটাই হোক।"

পুলিশ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

চাটমোহর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, শিক্ষকরা থানায় এসে এজাহার দিয়েছেন। নয়ন হোসেনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং মামলার প্রক্রিয়া চলমান। তিনি বলেন, "শিক্ষকদের এজাহার দিতে বলা হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত জানানো হবে।"

চাটমোহর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল গণি বলেন, "বিষয়টি জানার পর পুলিশকে অবহিত করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। তবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।"

এ ঘটনায় স্কুলের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।