বিএনপি নেতা আজিজুল হককে বহিষ্কার: গৌরীপুরে পেট্রোল গায়েবের ঘটনায় দলীয় পদচ্যুতি
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় বিএনপি নেতা আজিজুল হকের মালিকানাধীন মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন থেকে প্রায় ৫০ হাজার লিটার পেট্রোল গায়েব হওয়ার ঘটনায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর বুধবার (০৮ এপ্রিল) বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। আজিজুল হক গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দলীয় নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ
বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলীয় নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে আজিজুল হককে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে বলে জানানো হয়।
পেট্রোল গায়েবের ঘটনা ও অভিযান
এর আগে মঙ্গলবার আজিজুল হকের মালিকানাধীন সোয়াদ ফিলিং স্টেশন থেকে ৫০ হাজার লিটার পেট্রোল গায়েব হওয়ার ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনির।
এ ঘটনায় ওই ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. জলিল হোসেন রিফাত (৩০) কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি উপজেলার ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের হিম্মতনগর গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেফতারের পর তাকে নিয়মিত মামলার মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হয়।
মামলার বিবরণ ও তদন্তের ফলাফল
মঙ্গলবার রাতেই ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সার্টিফিকেট সহকারী আফসারুল ইসলাম বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা করেন। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ১, ২ ও ৪ এপ্রিল ভৈরববাজার (কিশোরগঞ্জ) ডিপো থেকে ৪০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ওই ফিলিং স্টেশনে আনা হয়। এরপর ৬ ও ৭ এপ্রিল আরও ১৮ হাজার লিটার পেট্রোল মজুত করা হয়।
সব মিলিয়ে ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল স্টেশনে থাকার কথা থাকলেও তা পাওয়া যায়নি। সেখানে মাত্র ৮ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল পাওয়া যায়। বাকি পেট্রোল গায়েব করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় স্টেশনে ‘তেল নেই’ লেখা সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাগজপত্র যাচাই করে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল আনার সত্যতা পান। পরে ব্যবস্থাপকের কাছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনও ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তাকে গ্রেফতার করে থানায় নেওয়া হয় এবং নিয়মিত মামলার মাধ্যমে গ্রেফতার দেখানো হয়।
আজিজুল হকের প্রতিক্রিয়া
অভিযোগের বিষয়ে ওই দিন ফিলিং স্টেশনের মালিক আজিজুল হক বলেন, ‘আমি যে পেট্রোল এনেছি তা প্রতিদিন বিক্রি করে দিয়েছি। এখানে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অযথা হয়রানি করেছেন।’ তবে তার এই বক্তব্য তদন্তে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি বলে জানা গেছে।
এই ঘটনাটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জ্বালানি খাতের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় পর্যায়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন।



