পেট্রল গায়েবের ঘটনায় বিএনপির উপজেলা সদস্য সচিব বহিষ্কার, ম্যানেজার গ্রেফতার
পেট্রল গায়েবের ঘটনায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার, ম্যানেজার গ্রেফতার

পেট্রল গায়েবের ঘটনায় বিএনপির উপজেলা সদস্য সচিব বহিষ্কার

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় একটি ফিলিং স্টেশন থেকে পেট্রল গায়েবের ঘটনায় মালিক ও স্থানীয় বিএনপির নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও গ্রেফতার

গত ৭ এপ্রিল মঙ্গলবার ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হুদা মনির নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের কলতাপাড়ায় অবস্থিত মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশনে এ অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে পেট্রল গায়েবের ঘটনায় ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাতকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ম্যানেজার গৌরীপুর উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের হিম্মতনগর গ্রামের মো. উসমান গণির ছেলে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা দায়ের ও বিএনপির পদক্ষেপ

এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তা মো. আফসারুল ইসলাম (২৭) বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। গৌরীপুর থানার ওসি মো. কামরুল হাসান মামলা ও গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "বিশেষ ক্ষমতা আইনে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।"

বিএনপির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে আজিজুল হককে বহিষ্কার করা হয়েছে। ফিলিং স্টেশনের মালিক আজিজুল হক উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পেট্রল বরাদ্দ ও বিতরণের অসঙ্গতি

মামলা সূত্রে জানা যায়, মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন এ মাসের ১, ২ ও ৩ তারিখ ১৩ হাজার ৫শ লিটার করে মোট ৪০ হাজার ৫শ লিটার পেট্রল বরাদ্দ পায়। ৬ ও ৭ এপ্রিল আরও ৯ হাজার লিটার করে মোট ১৮ হাজার লিটার পেট্রল বরাদ্দ পাওয়া যায়। কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার ডিপো থেকে মোট ৫৮ হাজার ৫শ লিটার পেট্রল বরাদ্দ পায় প্রতিষ্ঠানটি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেফতারকৃত ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত ভ্রাম্যমাণ আদালতকে নিশ্চিত করেন যে এ মাসে এ পর্যন্ত মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রল বিতরণ করা হয়েছে। এই তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত নিশ্চিত হয় যে ফিলিং স্টেশনটি অসৎভাবে তেল ব্যবসা বা অবৈধ মজুতের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

স্থানীয়দের বক্তব্য ও তদারকি কর্মকর্তার বিবৃতি

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে উপস্থিত জনতা, দোকানি ও মোটরসাইকেল চালকরা জানান, এ মাসে মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশনে মাত্র একদিন পেট্রল বিতরণ করা হয়েছে। তেল বিতরণে নিয়োজিত তদারকি কর্মকর্তার প্রতিনিধি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, "এ মাসে ৩ এপ্রিল আমাকে অবগত করা হয় যে পেট্রল বরাদ্দ পেয়েছে, যা ৪ এপ্রিল বিতরণ করা হয়।"

অভিযুক্ত ফিলিং স্টেশনের মালিক ও বিএনপি নেতা আজিজুল হক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, "ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে তার ম্যানেজার সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে পারে নাই। কয়েক দিন হয়েছে মাত্র তার নিয়োগ হয়েছে। তিনি যে পরিমাণ তেল পেয়েছেন তার সবটুকুই বিক্রি করেছেন।"

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান এবং বিএনপির দ্রুত বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জ্বালানি তেলের অবৈধ কারবার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সম্পৃক্ততা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।