গৌরীপুরে বিএনপি নেতার ফিলিং স্টেশন থেকে ৫০ হাজার লিটার পেট্রল উধাও, ম্যানেজার গ্রেফতার
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় বিএনপি নেতার একটি ফিলিং স্টেশন থেকে গত ছয় দিনে প্রায় ৫০ হাজার লিটার পেট্রল উধাও হওয়ার ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি অভিযানের মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে।
গ্রেফতার ও তদন্তের বিস্তারিত
এ ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. জলিল হোসেন রিফাত (৩০) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি গৌরীপুর উপজেলার ২ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের হিম্মতনগর গ্রামের মো. উসমান গণির পুত্র। ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিনি নিশ্চিত করেন যে, এ মাসে এ পর্যন্ত মাত্র ৯ হাজার লিটার পেট্রল বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাফেজ আজিজুল হক জানান, ম্যানেজার সঠিক তথ্য উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তিনি সম্প্রতি নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ম্যানেজার যে পরিমাণ তেল পেয়েছেন, তার সবটুকুই বিক্রি করেছেন।
পেট্রল বরাদ্দ ও অভিযানের তথ্য
মামলা সূত্রে জানা যায়, মেসার্স সোয়াদ ফিলিং স্টেশন এ মাসের ১, ২ ও ৩ তারিখে ১৩ হাজার ৫০০ লিটার করে মোট ৪০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রল বরাদ্দ পায়। এছাড়া ৬ ও ৭ এপ্রিল ৯ হাজার লিটার করে মোট ১৮ হাজার লিটার পেট্রল বরাদ্দ পাওয়া যায়। কিশোরগঞ্জের ভৈরববাজার ডিপো থেকে সর্বমোট ৫৮ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রল বরাদ্দ পায় বলে জানা গেছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মঙ্গলবার জ্বালানির নিরীক্ষা অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত নিশ্চিত হয় যে, ফিলিং স্টেশনটি অবৈধভাবে তেল ব্যবসা বা মজুতের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
তদারকি কর্মকর্তার বক্তব্য
তেল বিতরণে নিয়োজিত তদারকির কর্মকর্তার প্রতিনিধি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ মাসে ৩ এপ্রিল তাকে জানানো হয় পেট্রল বরাদ্দ পাওয়া গেছে, যা ৪ এপ্রিল বিতরণ করা হয়। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন, যা তদন্তে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ আরও গভীর তদন্ত চালাচ্ছে। জ্বালানি সংকটের সময়ে এমন ঘটনা জনগণের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।



