নওগাঁয় বিএনপি নেতাকে মারধরের অভিযোগ, সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী অস্বীকার
নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায় বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদকে মারধরের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গত রোববার বিকেলে উপজেলার প্রসাদপুর বাজারের হাসপাতাল রোড এলাকায় সংসদ সদস্য ইকরামুল বারীর বাসায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী এই অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত অভিযোগ
আজ সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে মান্দা উপজেলা বিএনপির একাংশ। সেখানে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান। তিনি বলেন, গত রোববার দুপুরে আবুল কালাম আজাদকে প্রসাদপুর বাজারের চৌরাস্তা মোড় এলাকা থেকে এমপির সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ আলী ও গোল্ডেনসহ ১০-১২ জন সন্ত্রাসী তুলে নিয়ে যায়। তাঁরা তাঁকে পেটাতে পেটাতে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে ইকরামুল বারীর বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে নিচতলায় একটি টর্চার সেলে আটকে রেখে নির্মমভাবে নির্যাতন ও মারধর করা হয়। মারধরের পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে বাসার সামনে রাস্তায় ফেলে রাখা হয়। পরে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। বর্তমানে তিনি নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হামলার কারণ ও পূর্ববর্তী ঘটনা
বিএনপি নেতা শফিকুল ইসলাম চৌধুরী অভিযোগ করেন, দলীয় আধিপত্য বিস্তারের জন্য ভিন্নমত পোষণকারী নেতা-কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও নির্যাতন করছে এমপি ইকরামুল বারী। তিনি আরও বলেন, এমপির নির্দেশে সন্ত্রাসী মোহাম্মদ আলী ও গোল্ডেন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এর আগে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল ইসলাম এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তাঁর ওপর হামলা চালিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করা হয়েছিল।
বিএনপির দাবি ও প্রতিক্রিয়া
সংবাদ সম্মেলনে সংসদ সদস্য ইকরামুল বারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দ্রুত তদন্ত এবং চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক কুমার বিশ্বজিৎ সরকার ও শামসুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা, এবং ভারশোঁ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী বকুল প্রমুখ।
আহত নেতার বক্তব্য
নওগাঁ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এমপির বাড়ির নিচতলায় নিয়ে গিয়ে তাঁরা আমাকে মারধর করে। মারধর করতে করতে মোহাম্মদ আলী বলে, “তোকে যদি মান্দা উপজেলার বিএনপি কমিটির লোকজনের সাথে কর্মসূচি পালন করতে দেখি তাহলে তোকে প্রাণে মেরে ফেলব।” এ ঘটনায় আমি মামলা করব এবং জেলা ও কেন্দ্রীয় বিএনপি বরাবর অভিযোগ দায়ের করব।’
সংসদ সদস্যের জবাব
অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী বলেন, ‘যে ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে তাঁর সঙ্গে আমার কোনো যুক্ততা নেই। সংসদ অধিবেশন চলার কারণে বেশ কয়েক দিন ধরে আমি এলাকায় নেই। বলা হচ্ছে আমার এপিএস মারধর করেছে, প্রকৃত পক্ষে আমার কোনো এপিএস কিংবা পিএস নাই। দলীয় কোনো নেতা-কর্মীদের কলহ হলে এ ঘটনার বিচার করবে উপজেলা কিংবা জেলা বিএনপি। এ ছাড়া মারামারির ঘটনা প্রকৃতপক্ষে ঘটে থাকলে থানায় মামলা করলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। এতে যেই অপরাধী হোক না কেন, তাঁকে শাস্তি পেতে হবে।’
অন্যান্য প্রতিক্রিয়া
মারধরের অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ আলী ও গোল্ডেনের মুঠোফোনে কল করা হলে তাঁদের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু দলীয় কর্মীকে মারধর করা হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



