বিএনপির কাউন্সিল আয়োজন: দলকে সুসংগঠিত করতে স্থায়ী কমিটির ঐকমত্য
সাংগঠনিক কাজকে গতিশীল করার লক্ষ্যে এবং দলকে আরও সুসংগঠিত করতে শিগগিরই কাউন্সিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কাউন্সিলের সময়সূচি ও প্রস্তুতি
রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া এই বৈঠক শেষে রাত ১১টায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, দলকে সুসংগঠিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়ে স্থায়ী কমিটি একমত হয়েছে। তবে প্রস্তুতির জন্য কয়েক মাস সময় প্রয়োজন হওয়ায় পবিত্র ঈদুল আজহার আগে কাউন্সিল করা সম্ভব হচ্ছে না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দৈনন্দিন কার্যক্রম চালু রাখার পাশাপাশি দলকে সক্রিয় রাখতে এবং ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।” এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকের আলোচ্য বিষয়সমূহ
বৈঠকে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি, বিভিন্ন এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাবসহ সার্বিক জননিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সরকারের গত ৪৭ দিনের কর্মকাণ্ড ও গৃহীত পদক্ষেপসমূহ সম্পর্কে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের অবহিত করা হয়। তবে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে এই বৈঠকে কোনও আলোচনা হয়নি বলে জানান বিএনপি মহাসচিব।
উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়া ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান। তবে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকায় বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি মির্জা আব্বাস।
এই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিএনপি আগামী দিনগুলোতে দলীয় কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করবে। এটি দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



