চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আটজন আহত, পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর
সাতকানিয়ায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আটজন আহত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আটজন আহত, পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ফকিরখিল ও নতুন হাট এলাকায় দুই দফায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই মারামারির ঘটনা ঘটেছে।

আহত ব্যক্তিদের পরিচয় ও চিকিৎসা

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজনের নাম নিশ্চিতভাবে জানা গেছে। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ জসিম, মোহাম্মদ টিপু, মোহাম্মদ সাকিব, আলিম উদ্দিন, রবিউল হাসান, মো. রিফাত ও কফিল উদ্দিন। অন্য একজনের নাম এখনো অজানা রয়ে গেছে। আহতরা সবাই ইউনিয়ন বিএনপির নেতা-কর্মী হিসেবে পরিচিত।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি আহতরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংঘর্ষের পটভূমি ও নেতৃত্ব

স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সংঘর্ষের এক পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি কামরুল ইসলাম তালুকদার। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন, যিনি এই হামলায় নিজেও আহত হয়েছেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

জানা গেছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে পুরানগড় ইউনিয়নের ফকিরখিল এলাকায় সাবেক ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম তালুকদারের অনুসারী সাকিব নামের এক তরুণের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে একটি গ্রাম্য সালিস বসে। সেখানে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে জসিম উদ্দিনের অনুসারীরা দেশি ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে কামরুল ইসলামের অনুসারীরা সংঘটিত হয়ে পাল্টা হামলা চালান। ফলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।

নেতাদের বক্তব্য ও প্রতিক্রিয়া

সাবেক ছাত্রদল নেতা কামরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “জসিম উদ্দিনের লোকজন এলাকায় সালিসের মধ্যে অতর্কিত হামলা চালান। এ ঘটনায় এলাকার লোকজন ক্ষুব্ধ।” তবে সংঘর্ষে জসিম উদ্দিন আহত হওয়ায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাতকানিয়া উপজেলায় বিএনপির কোনো কমিটি না থাকলেও ঘটনা প্রসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, “তিনি সাংগঠনিক কাজে ঢাকায় আছেন। ঘটনাটি শুনেছেন। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে তিনি ইতিমধ্যে প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন। এলাকায় এসে আহত নেতা-কর্মীদের খবর নেবেন।”

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক বলেন, “খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে পুলিশ তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেবে।”

পুলিশ সূত্রে আরো জানা গেছে, ঘটনাস্থলে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।