চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে মীরসরাইয়ে যুবদলের দুগ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ১০
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় গাছ ও বালুবোঝাই ট্রাক থেকে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুটি গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুর থেকে করেরহাট ইউনিয়নের ফরেস্ট অফিস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের তালিকা ও আতঙ্কের পরিবেশ
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাদ্দাম হোসেন পিন্টু, মো. আনোয়ার, ধলা মিয়া, মোহাম্মদ রাসেল ও মো. ফারুক। সংঘর্ষের সময় বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়কে উভয় পক্ষ প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিতে দেখা যায়, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ঘটনায় এলাকার শান্তি বিনষ্ট হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ ভয়ে রয়েছেন।
চাঁদা তোলার পটভূমি ও গ্রুপীয় দ্বন্দ্ব
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়ক দিয়ে পূর্বদিক থেকে আসা কাঠবোঝাই ট্রাক থেকে এক হাজার টাকা এবং বালুবোঝাই ট্রাক থেকে ৫০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হতো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্থানীয় যুবদল নেতা মোহাম্মদ আলমগীর ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাসুদ কালার নেতৃত্বে এই টাকা তোলা হতো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর আলমগীর ও মাসুদ কালাকে সরিয়ে নুর উদ্দিনসহ কয়েকজনকে টাকা তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়, যা থেকে দুগ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলে আসছিল।
সংঘর্ষের সরাসরি কারণ
মঙ্গলবার টাকা তোলার দায়িত্বে থাকা ফারুকের ওপর আলমগীরের লোকজন হামলা চালায়। খবর পেয়ে ফারুকের পক্ষের লোকজন ছুটে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বেধে যায়, যেখানে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হয়ে জানান, ট্রাক ও বালুর গাড়ির টাকা উত্তোলন, মাদক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে ঘিরে বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল, যার জেরে এই সংঘর্ষ ঘটেছে। এর আগে বনবিভাগের এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে, যা এলাকায় বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ওসি কাজী নাজমুল হক বলেন, "ফরেস্ট অফিস এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।" পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে এলাকায় শান্তি ফিরে এসেছে বলে জানানো হয়েছে, তবে তদন্ত চলছে বলে উল্লেখ করা হয়।
এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক সংঘাত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা সামগ্রিকভাবে সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।



