সংসদে তাহসিনা রুশদীর দাবি: বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর গুমের বিচার চাইলেন
সংসদে ইলিয়াস আলীর গুমের বিচার দাবি তাহসিনা রুশদীর

সংসদে গুমের বিচার দাবি: তাহসিনা রুশদীর ইলিয়াস আলীর খোঁজ চাইলেন

বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী ও সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে গুমের বিচার দাবি করেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কাছে ২০১২ সালে গুম হয়ে যাওয়া ইলিয়াস আলীর খোঁজ জানতে চেয়েছেন এবং গুমের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে দাবি উত্থাপন

সোমবার (৩০ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তাহসিনা রুশদীর এই দাবি উত্থাপন করেন। তিনি সংসদে বলেন, "ইলিয়াস আলীসহ যারা গুম হয়েছেন, তাদের অবস্থান ও পরিণতি জানতে চাই।" প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাতে বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক আনসার আলীসহ ঢাকার বনানী থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ-খবর পাওয়া যায়নি।

গুমের শিকার পরিবারগুলোর দাবি ও পুনর্বাসন

তাহসিনা রুশদীর ইলিয়াস আলীর গুমের বিষয়ে সংসদে বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইলিয়াস আলী ও সুমন পারভেজসহ আরও যারা গুম হয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যরা তাদের সন্তানদের অবস্থান জানতে চান। তিনি বলেন, "আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছি দেড় বছরের কাছাকাছি সময়, কিন্তু এখনও জানি না আমাদের স্বজনরা কোথায়।" এ সময় তিনি স্পিকারের মাধ্যমে গুমের শিকার ব্যক্তিদের অবস্থান ও পরিণতি জানতে চান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এসব গুমের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার এবং গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের আর্থিক জটিলতা নিরসনে পুনর্বাসনের জন্যও জোর দাবি জানান এই সংসদ সদস্য। তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কাছে ১৭ বছরে যারা গুম বা খুন হয়েছেন, তাদের জুলাইযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও তুলে ধরেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও ভবিষ্যতের আশা

রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, "মহামান্য রাষ্ট্রপতি বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট ভূমিকা ও গুম-খুনের সঠিক চিত্র তুলে ধরেছেন।" তিনি বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রপতির পরিকল্পনার প্রশংসা করেন। লুনা বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সকলের প্রচেষ্টায় গুম-খুন নির্মূল হবে এবং একটি বৈষম্যহীন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠিত হবে।

এই ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে। তাহসিনা রুশদীরের এই দাবি গুমের শিকার পরিবারগুলোর কণ্ঠস্বরকে সংসদে প্রতিধ্বনিত করেছে এবং ন্যায়বিচারের দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে।