প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার বিএনপি কার্যালয়ে তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ শনিবার প্রথমবারের মতো বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। সন্ধ্যায় দলের ৪৫ জন সংসদ সদস্যের সঙ্গে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক পরিচালনা করেন। রাত ৯টার দিকে বৈঠক শেষে তিনি কেন্দ্রীয় কার্যালয় ত্যাগ করেন।
সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশ্য
বিএনপির একটি দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এমন ৪৫ জন সংসদ সদস্যকে, যাঁরা সংসদে প্রতিশ্রুতিশীল এবং গুছিয়ে কথা বলতে পারবেন বলে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করেন। উল্লেখযোগ্য সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, শাহাদাত হোসেন সেলিম, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল এবং মোশাররফ হোসেন প্রমুখ।
বৈঠকের বিষয়বস্তু ও উপস্থিতি
বৈঠকে সংসদীয় আচার-আচরণ ও রীতিনীতি সম্পর্কে সংসদ সদস্যদের ধারণা দেন বিএনপির চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় শুরু হয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলে।
তারেক রহমানের নির্দেশনা ও বক্তব্য
বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার বারান্দা থেকে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি জনগণের ভোগান্তি কমাতে সুশৃঙ্খলভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নেতা-কর্মীদের কঠোর নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘আমি আরও দু-এক দিন আসব। আমি দেখব যদি দেখি স্বাভাবিক রেখেছেন, তাহলে আমি আসব। আর যদি দেখি স্বাভাবিক রাখেন নাই, তাহলে কিন্তু এখানে আমার পক্ষে আসা সম্ভব হবে না। কারণ, আমি আসলেই আপনারা যদি এ রকম করেন, এলাকার মানুষের সমস্যা হবে। এদিক দিয়ে বহু হাজার হাজার মানুষ যাওয়া-আসা করে, তাদের সমস্যা হবে।…প্রত্যেকটা নেতা–কর্মীকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সতর্কতা
তারেক রহমান বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবারও আসার ইচ্ছা পোষণ করেন, তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে রাস্তা বন্ধ করে সড়কে ভোগান্তি সৃষ্টি না করতে নেতা-কর্মীদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এই বৈঠকটি তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন ভূমিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে, যেখানে তিনি দলীয় কার্যক্রমকে আরও সংহত ও জনবান্ধব করার চেষ্টা করছেন। বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে এই বৈঠকটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



