মাদারীপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে পরিবহণ শ্রমিক গুলিবিদ্ধ
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় আরমান সর্দার (৩৫) নামে এক পরিবহণ শ্রমিক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকালে ঢাকা-ভাঙ্গা হাইওয়ের পাঁচ্চর গোলচত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত প্রাইভেটকার ভাড়া নিয়ে
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করা নিয়ে সংঘর্ষটির সূত্রপাত হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতা আজমল হোসেন চৌধুরী (ইথু) এবং প্রাইভেটকার চালকের মধ্যে ভাড়া নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা জিয়াউল হক জিয়া লোকজন নিয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা পরিবহণ ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা ফারুক মোল্লার অফিস ভাঙচুর করেন।
সংঘর্ষের মধ্যে জিয়াউল হক জিয়ার বিরুদ্ধে কয়েক রাউন্ড গুলি করার অভিযোগ ওঠে। তার ছোড়া গুলিতে পরিবহণ শ্রমিক আরমান গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় গুলিবিদ্ধ আরমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া
শনিবার এ সংঘর্ষের সিসিটিভি ফুটেজ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন তারা। ফারুক মোল্লার বাবা শিবচর উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক সাজু মোল্লা বলেন, "গাড়ি ভাড়ার টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটির ঘটনায় আমার ছেলের অফিস ভাঙচুর করেছে। কয়েকজনকে মারধর করেছে। আমি এর বিচার দাবি করি।"
এ ব্যাপারে আজমল হোসেন ও জিয়াউল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ
শিবচর থানার ওসি মো. আমির হোসেন সেরনিয়াবাত বলেন, "সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। সংঘর্ষে জড়িত দুইপক্ষের কেউই এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ করেনি। আমরা সিসিটিভির ভিডিও সংগ্রহ করেছি। দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।"
এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি জোরদার করেছে।



