প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে নয়াপল্টনে বিএনপি নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমাগম
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নয়াপল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আসছেন তারেক রহমান। তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার বিকেলে দলীয় কার্যালয় এলাকায় নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হতে শুরু করেন, যা এলাকায় একটি রাজনৈতিক উৎসবের আমেজ তৈরি করে।
সড়কজুড়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি
আজ বিকেলে সরেজমিনে পুরানা পল্টনের নাইটেঙ্গেল মোড় থেকে নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়ক ছাপিয়ে সড়কের দুইপাশে এবং সড়ক বিভাজকের ওপরে অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মীরা। তাদের কারও কারও হাতে দলীয় ব্যানার-ফেস্টুন ও বিভিন্ন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়, যা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাদের সমর্থন ও উৎসাহ প্রকাশ করছে।
বিভিন্ন সংগঠনের অংশগ্রহণ
ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবকদলসহ প্রায় সবকয়টি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিচ্ছিন্নভাবে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এসময় তারা ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’, ‘ছাত্রদলের পক্ষ থেকে লাল গোলাপ শুভেচ্ছা’সহ তারেক রহমানের নামে স্লোগান দিচ্ছিলেন। বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল করতেও দেখা যায়, যা এলাকায় একটি প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে।
নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া
কোতোয়ালী থানার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মো. আসাদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের নেতা আমাদের প্রধানমন্ত্রী আজকে আমাদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করবেন। দুপুর থেকেই তাঁর অপেক্ষায় রয়েছি।’ উত্তরা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী মনিরুল বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী আসবেন। তাঁকে একনজর দেখতে সকাল থেকে এখানে আছি।’ এছাড়াও, দলীয় পদ পদবী নেই তবে বিএনপির সমর্থক এমন অনেকেও এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখতে।
যানজটের সৃষ্টি
সড়কে নেতাকর্মীদের ভিড় থাকায় নয়াপল্টন এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে কোনো রকমে এক লাইনে গাড়ি চলাচল করতে পারছে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। রাজধানীর মালিবাগ এলাকার বাসিন্দা শামসুল হক, যিনি নিজেকে বিএনপির সমর্থক পরিচয় দিলেন, বললেন, ‘গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান দলীয় কার্যালয়ে আসবেন। একটু দেখতে আসলাম। উনাকে আগে কোনোদিন দেখিনি। বাড়িতে জিজ্ঞাসা করছে কোথায় যাই। বলেছি, একটু বাইরে। আসল কথাটা বলিনি।’
এই ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।



