মাদারীপুরের শিবচরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে পরিবহনশ্রমিক গুলিবিদ্ধ
বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে শ্রমিক গুলিবিদ্ধ, মাদারীপুর

মাদারীপুরের শিবচরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে পরিবহনশ্রমিক গুলিবিদ্ধ

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলায় প্রাইভেট কারের ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে শিবচরের ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাঁচ্চর গোলচত্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন এক পরিবহনশ্রমিক, যিনি গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে মাদবরেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজমল হুদা চৌধুরী ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে শিবচরের পাঁচ্চর গোলচত্বরে যান। সেখানে তিনি শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) শাজাহান মোল্লার ছেলে ফারুক মোল্লার ভাড়া গাড়ির অফিসে একটি প্রাইভেট কার ভাড়া নিতে চান। তবে ভাড়া বেশি চাওয়ায় চালকের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়।

খবর পেয়ে আজমল হুদার পক্ষের লোকজন গোলচত্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় ফারুক মোল্লার অফিসটি ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে আজমল হুদার পক্ষের জিয়াউল হক (৪৫) নামের এক ব্যক্তি গুলি ছুড়লে আরমান সরদার (৩৫) নামের এক পরিবহনশ্রমিক গুলিবিদ্ধ হন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আহতের অবস্থা ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

আহত আরমান সরদার শিবচরের সিকদারকান্দি এলাকার বাসিন্দা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। খবর পেয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান এবং শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন সেরনিয়াবাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তারা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। শিবচর থানার ওসি মো. আমির হোসেন সেরনিয়াবাত জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাত থেকে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিপক্ষীয় বক্তব্য ও অভিযোগ

শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) শাজাহান মোল্লা বলেন, ‘আজমল হুদার লোকজন আমার ছেলের অফিস ভাঙচুর করেছে। তাদের লোক আমাদের এক শ্রমিককে গুলি করেছে। তাদের এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার চাই।’

অন্যদিকে, মাদবরেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আজমল হুদা চৌধুরী বলেন, ‘চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই এই ঝামেলা হয়েছে। এখানে কোনো চাঁদাবাজ থাকবে না। কয়েকজন চাঁদাবাজ আমার সঙ্গে আজেবাজে ব্যবহার করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা সরতে বাধ্য হইছে। এখানে আমার কোনো লোক সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করেনি।’

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পুলিশ নজরদারি জোরদার করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন।