কুড়িগ্রামে বিএনপি নেতার গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি পেট্রোল উদ্ধার, জরিমানা ১০ হাজার টাকা
কুড়িগ্রামে বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে পেট্রোল উদ্ধার, জরিমানা

কুড়িগ্রামে বিএনপি নেতার গোয়ালঘরে পেট্রোল মজুত: ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও জরিমানা

কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলায় এক বিএনপি নেতার গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি পেট্রোল উদ্ধার করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মকর্তারা। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নে একটি অভিযান চালানো হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমানের নেতৃত্বে এই অভিযানে গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি পেট্রোল এবং তেল বিক্রির বিভিন্ন উপকরণ জব্দ করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপির সভাপতি আবু জাহানের বাড়ির গোয়ালঘরে অবৈধভাবে পেট্রোল মজুত রাখা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই অবৈধ মজুত উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী অবৈধ মজুতদারি ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অপরাধে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের সংকট সৃষ্টির পর আবু জাহান বিভিন্ন পাম্প থেকে অবৈধভাবে পেট্রোল মজুত করতে শুরু করেন এবং তার ছেলে এরশাদুল হক বাজারে চড়া দামে বিক্রি করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের অভিযোগ ও বিক্রির দাম

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবু জাহানের ছেলে এরশাদুল হক প্রতি লিটার পেট্রোল ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি করে আসছিলেন। কখনো কখনো ৩০০ টাকা লিটারও বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযান চলাকালে আবু জাহান ও এরশাদুল হক কেউই উপস্থিত ছিলেন না। জাহানের ছোট ছেলে হারুনুর রশিদ জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হারুনুর রশিদ দাবি করেন, ‘আমার বাবা বিএনপির রাজনীতি করেন। বড় ভাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। কিন্তু তিনি এখন বাজারে তেলের ব্যবসা করেন। আমাদের বাড়িতে তিনটি মোটরসাইকেল আছে, এই পেট্রোল আমাদের নিজস্ব মোটরসাইকেলে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছিল’। তবে নিজেদের মোটরসাইকেলের জন্য বসতবাড়িতে ড্রামে করে তেল সংরক্ষণ প্রশ্নে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি হারুন।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, এরশাদুল হক যুবলীগ নেতা ছিলেন, তবে তার পদ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারেননি তারা। এ ব্যাপারে রৌমারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসেম বলেন, ‘আমি বিষয়টি শুনেছি। যদিও বিষয়টি তার ব্যক্তিগত...তার ছেলে নাকি তেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমরা সাংগঠনিকভাবে তাকে সতর্ক করবো।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান জানান, বসতবাড়ির গোয়ালঘরে পেট্রোল মজুত করায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও তেলের ড্রাম জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে জড়িতদের সতর্ক করা হয়েছে। এই অভিযানটি জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও বিক্রি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সক্রিয় ভূমিকার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, জ্বালানি সংকটের সময়ে এমন অবৈধ কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এই ঘটনা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জড়িত থাকার সম্ভাবনা উসকে দিয়েছে, যা আরও তদন্তের দাবি রাখে।