ঝিনাইদহে ইউএনওর বক্তব্য নিয়ে বিএনপি নেতাদের তীব্র প্রতিবাদ
ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তারের বক্তব্য নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইউএনও তার বক্তব্যে স্বাধীনতার ঘোষক ও বীর উত্তম শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় বিএনপি নেতারা অনুষ্ঠান বর্জন করে প্রতিবাদ জানান।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি অনুযায়ী, ইউএনও খাদিজা আক্তার তার বক্তৃতায় স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। এই বিষয়টিকে তারা ইচ্ছাকৃত উপেক্ষা হিসেবে বিবেচনা করে অনুষ্ঠান স্থল থেকে সরে আসেন। ঘটনার পরপরই বিএনপি নেতারা বিকেলে ঝাড়ুমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন, তবে ইউএনওর বদলির খবর পাওয়ার পর তারা এই কর্মসূচি স্থগিত রাখেন।
মজার ব্যাপার হলো, ইউএনও খাদিজা আক্তারের বদলির আদেশটি ঘটনার আগের দিনই অর্থাৎ ২৫ মার্চ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। যদিও এই খবরটি ঘটনার পর রাতেই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। উপজেলা ও পৌর বিএনপি নেতারা বদলির খবর সত্ত্বেও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন অব্যাহত রাখেন।
বিএনপি নেতাদের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ। যারা বক্তব্য দেন তাদের মধ্যে রয়েছেন:
- পৌর বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান
- উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান
- উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দবীর উদ্দিন বিশ্বাস
- জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরফদার মাহমুদ তৌফিক
- পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম
- উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান
- পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ খান
এই নেতারা ইউএনওর বক্তব্যকে ঐতিহাসিক সত্যের প্রতি অবমাননাকর হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
ইউএনও খাদিজার বক্তব্য
ঘটনার পর ইউএনও খাদিজা আক্তার গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে বলেন, 'আমরা প্রজাতন্ত্রের দায়িত্ব পালন করি। সরকার ও আইন যেভাবে বলবে, সেভাবেই আমরা দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি।' তিনি আরও যোগ করেন, 'স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে সংবিধানে অন্য একজনের নাম রয়েছে, সেটা আগে পরিবর্তন করতে হবে।'
খাদিজা আক্তারের এই মন্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এই ঘটনা উপজেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
মহেশপুর উপজেলার সাধারণ মানুষ এই ঘটনাকে বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করছেন। কিছু স্থানীয় বাসিন্দা ইউএনওর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করলেও অন্যরা মনে করেন সরকারি অনুষ্ঠানে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা উচিত ছিল।
এই ঘটনা উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার সম্পর্কের গতিপ্রকৃতিও স্পষ্ট করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে সতর্কতা অবলম্বন করা ভবিষ্যতে এমন সংঘাত এড়ানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঝিনাইদহ জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ঘটনা একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে স্থান পেতে পারে বলে অনেকে মত প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যকার এই ধরনের সংঘাত প্রায়শই জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের প্রতিফলন হয়ে থাকে।



