ঝিনাইদহের মহেশপুরে স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানে বিতর্ক
ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এক উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার তাঁর বক্তব্যে স্বাধীনতার ঘোষক ও বীর উত্তম শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ না করায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে অনুষ্ঠান বর্জন করেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে মহেশপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে।
বিএনপির তীব্র প্রতিক্রিয়া ও প্রতিবাদ
বিএনপির স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, ইউএনও খাদিজা আক্তার তাঁর বক্তব্যে কেবল জিয়াউর রহমানই নন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামও উল্লেখ করেননি। এই বিষয়টিকে তারা ইচ্ছাকৃত অবহেলা হিসেবে দেখছেন। প্রতিবাদে তারা অনুষ্ঠান বর্জন করেন এবং বিকেলে ঝাড়ুমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তবে ইউএনওর বদলির খবর পাওয়ার পর ঝাড়ুমিছিল বাদ দেওয়া হয়, কিন্তু উপজেলা ও পৌর বিএনপি প্রতিবাদ সমাবেশ করে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে।
ঘটনার পর পৌর বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক দবীর উদ্দিন বিশ্বাস, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরফদার মাহমুদ তৌফিক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ খান প্রমুখ নেতারা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ইউএনওর বক্তব্য ও বদলির আদেশ
ইউএনও খাদিজা আক্তার গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘আমরা প্রজাতন্ত্রের দায়িত্ব পালন করি। সরকার ও আইন যেভাবে বলবে, সেভাবেই আমরা দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করি।’ তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে সংবিধানে অন্য একজনের নাম রয়েছে এবং সেটা আগে পরিবর্তন করতে হবে।
এদিকে, ঘটনাটি ঘটার পরই ইউএনও খাদিজা আক্তারকে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় বদলি করা হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আমিরুল আরাফাত স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়। আদেশটি ২৫ মার্চ স্বাক্ষরিত, যা ঘটনার আগের দিন। একই প্রজ্ঞাপনে চিতলমারীতে কর্মরত ইউএনওকে মহেশপুরে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য
এই ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বিএনপি নেতাদের মতে, এটি একটি ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ যা তাদের দলের প্রতি অবমাননাকর। অন্যদিকে, ইউএনওর বদলির আদেশটি ঘটনার আগে স্বাক্ষরিত হওয়ায় এটি কাকতালীয় নাকি পূর্বপরিকল্পিত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয় পর্যায়ে এই ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ অনুষ্ঠানে কী ধরনের বক্তব্য দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
মহেশপুর উপজেলার এই ঘটনা শুধুমাত্র স্থানীয় নয়, জাতীয় পর্যায়েও আলোড়ন সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণ ও সম্মান প্রদর্শনের গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।



