কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতার বিতর্কিত মন্তব্য: ‘ইচ্ছে করে বদলি করেছি জেলা প্রশাসককে’
বিএনপি নেতার মন্তব্য: ‘জেলা প্রশাসককে ইচ্ছে করে বদলি করেছি’

কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতার বিতর্কিত মন্তব্য: ‘ইচ্ছে করে বদলি করেছি জেলা প্রশাসককে’

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী একটি আলোচনা সভায় দাবি করেছেন, তিনি ইচ্ছে করে কুষ্টিয়ার আগের জেলা প্রশাসককে বদলি করেছেন। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

স্বাধীনতা দিবসের সভায় বক্তব্য

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় মেহেদী আহমেদ রুমী এই বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বর্তমান জেলা প্রশাসক তৌহিদ-বিন-হাসান। প্রায় আড়াই মিনিটের ভিডিওটিতে তিনি নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।

নির্বাচনে পরাজয়ের অভিযোগ

সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী তার বক্তব্যে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কিছু গাদ্দার ও আমাদের দলের কিছু গাদ্দার মিলে আমাকে মাত্র ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছে। আমি ১ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছি, কিন্তু বিজয়ী হতে দেয়নি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি ৬০ বছর ধরে রাজনীতি করছি, আমার বয়স ৭৩ বছর। মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছি। অনেকেই মুক্তিযোদ্ধা নামে পরিচিত, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কোনও ভূমিকা পালন করেননি।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ

নির্বাচনকালীন জেলা প্রশাসকের ভূমিকা নিয়ে মেহেদী আহমেদ বলেন, ‘কুষ্টিয়ার আগের জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন গাদ্দারি করেছেন নির্বাচনের সময়। কুমারখালী ও খোকসা প্রশাসনও একইভাবে কাজ করেছে। যদি তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করত, তবে আমি এক লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হতাম।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘জানি না আমার অপরাধ কী? একটু কথা বলি, সত্য বলার চেষ্টা করি—এটাই আমার অপরাধ।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাইকোর্টে মামলা ও ভবিষ্যৎ আশা

এই বিএনপি নেতা জানান, নির্বাচনের ভোট গণনা নিয়ে তিনি ইতিমধ্যে হাইকোর্টে মামলা করেছেন এবং আদালত তা গ্রহণ করেছেন। ২৪ জুন শুনানি নির্ধারিত রয়েছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে ভোট পুনর্গণনা হবে এবং তিনি শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবেন। তার মতে, এই আইনি লড়াই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জেলা প্রশাসক বদলির দাবি

বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মেহেদী আহমেদ রুমী স্পষ্টভাবে দাবি করেন, ‘আগের জেলা প্রশাসক সাহেবকে ইচ্ছে করে বদলি করে দিয়েছি। কারণ, সরকার আমাদের তো। আমি একজন সিনিয়র ব্যক্তি, ৭৩ বছর বয়স। উনি (জেলা প্রশাসক) এ রকম কাজ করবেন, তা আমি বুঝতে পারিনি। বুঝতে পারলে আমরা আগেই ব্যবস্থা নিতাম।’ এই মন্তব্যে স্থানীয় প্রশাসনে তার প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তা

কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে আয়োজিত এই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলমসহ অনেকে। তবে মেহেদী আহমেদ রুমীর বক্তব্যেই অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পান সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, যিনি সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই আসনে তাকে পরাজিত করে জয়ী হন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী আফজাল হোসেন। এই পরাজয় বিএনপির স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হয়।

মেহেদী আহমেদ রুমীর এই বিতর্কিত মন্তব্য স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, একজন পরাজিত প্রার্থী কীভাবে জেলা প্রশাসক বদলির দাবি করতে পারেন? অন্যদিকে, তার সমর্থকরা দাবি করেন, এটি একটি সত্যিকারের অভিযোগ যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা এর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক করছেন।