বিএনপি নেতার বাড়ি দখল করে হোটেল ও মদের ব্যবসা চালাতেন অবসরপ্রাপ্ত লে. জে. মাসুদ
গুলশানের ৫০ নম্বর রোডের ৬ নম্বর বাড়িটি সাবেক সচিব ও বিএনপি নেতা এএইচ মোফাজ্জল করিমের মালিকানাধীন। ২০০৩ সালে পাঁচ কাঠা জমির উপর ছয় তলা এই বাড়িটি নির্মিত হয়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে, গত ১৭ বছর ধরে মোফাজ্জল করিম নিজের বাড়িতেই প্রবেশ করতে পারেননি। কারণ ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাড়িটি কার্যত দখলে নিয়ে নেন অবসরপ্রাপ্ত লে. জে. মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।
হোটেল ও মদের আড্ডার কেন্দ্র
দখলকৃত বাড়িতে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ‘কোয়ালিটি ইন’ নামে একটি আবাসিক হোটেল চালু করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই হোটেলে অবৈধ মদের ব্যবসাসহ নিয়মিত ডিজে পার্টির আয়োজন হতো। গুলশান সোসাইটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যখন প্রতিবাদ করেন, তখন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তাদের হয়রানি করা হয় বলে জানা গেছে।
মোফাজ্জল করিম বুধবার এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘তাদের কাছে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ কোটি টাকারও বেশি ভাড়া পাওনা রয়ে গেছে। র্যাব, পুলিশসহ অনেকের দ্বারে দ্বারে গিয়েছি। কোথাও থেকে ন্যূনতম আইনগত সহায়তাও পাওয়া যায়নি।’ তাঁর এই বক্তব্য দীর্ঘদিনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তার চিত্র ফুটিয়ে তোলে।
পরিস্থিতির পরিবর্তন ও গ্রেফতার
৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। মাসুদ উদ্দিন ও তাঁর সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যান। ১১ নভেম্বর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি অভিযানে হোটেল থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদসহ দুজন ব্যক্তি গ্রেফতার হন। এরপর হোটেলের কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায় এবং মালিকপক্ষ অবশেষে তাদের বাড়ির দখল ফিরে পান।
সম্প্রতি, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানব পাচার মামলায় গ্রেফতার করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রভাব ও সম্পত্তি দখলের জটিল সম্পর্কের উপর আলোকপাত করে।
এই মামলাটি শুধু একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিরোধই নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রতিফলন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই দখলদারিত্ব এবং অবৈধ কার্যক্রম প্রশাসনিক দুর্বলতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে।



