বিজয়নগরে স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ না করায় বিএনপির বর্জন
জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ না করায় বিজয়নগরে বিএনপির অনুষ্ঠান বর্জন

বিজয়নগরে স্বাধীনতা দিবস অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ না করায় বিএনপির বর্জন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণ না করায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠন বর্জন ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় এ ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।

ঘটনার বিবরণ

জানা গেছে, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তিলোত্তমা রায় তমার উপস্থাপনা ও কুচকাওয়াজের পূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ফাতেমার স্বাগত বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের নাম একবারের জন্যও উচ্চারণ করা হয়নি। এই বিষয়টি বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে, যার ফলে তারা অনুষ্ঠান বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেন।

এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল করে সমাবেশস্থল থেকে বেরিয়ে যান, যা অনুষ্ঠানের পরিবেশকে ব্যাহত করে। তবে পরবর্তীতে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যস্থতায় ইউএনও নাহিদ ফাতেমা ক্ষমা চেয়ে পুনরায় বক্তব্য প্রদান করার শর্তে তাদের ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিএনপির প্রতিক্রিয়া

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন বলেন, "বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও উপজেলা প্রশাসন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারণের প্রয়োজন মনে করেনি। আমরা এর প্রতিবাদে অনুষ্ঠান বর্জন করেছিলাম, কিন্তু ইউএনও ক্ষমা চেয়ে পূর্বের বক্তব্য প্রত্যাহার করে পুনরায় বক্তব্য দেওয়ার শর্তে আমাদের ফিরিয়ে নিয়েছেন।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা এমন ঘাপটি মেরে বসে থাকা আওয়ামী লীগের দোসরমুক্ত বিজয়নগর উপজেলা প্রশাসন চাই।" এই মন্তব্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি বিএনপির অসন্তোষকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ইউএনওর অবস্থান

এ বিষয়ে ইউএনও নাহিদ ফাতেমার সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগ করে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি বলে জানা গেছে। এই ঘটনাটি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্ন তুলেছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে উত্তপ্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, এই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নাম উচ্চারণ ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের গুরুত্বকে ফুটিয়ে তুলেছে, পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের দিকেও আলোকপাত করেছে।