নারায়ণগঞ্জে বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিএনপির সহায়তা
নারায়ণগঞ্জে বাড়ি ভাঙচুর: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিএনপি

নারায়ণগঞ্জে জমি বিরোধে বাড়ি ভাঙচুর: প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিএনপির তৎপরতা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার শিবু মার্কেট এলাকায় জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এক ব্যক্তির বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশে এই তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নেতারা।

বিএনপি নেতাদের পরিদর্শন ও প্রতিক্রিয়া

সোমবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শন করেন। এই দলে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল বারী ভুঁইয়া, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি সহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মামুন মাহমুদ বলেন, "বাড়ি ভাঙচুরের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবগত হয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ককে নির্দেশ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর জন্য। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে এসেছি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যাতে ভাঙচুর হওয়া ভবনটি দ্রুত মেরামত করে বসবাস করতে পারে, সে জন্য জেলা পরিষদের ফান্ড থেকে একটি অনুদান তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ঘোষণা

মামুন মাহমুদ এই ঘটনাকে একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, "যারা অপরাধ করেছে, তাদের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই।" তিনি মিডিয়ার প্রতি অনুরোধ করেন যে, কোনো খবর প্রকাশের আগে ভালো করে তদন্ত করে দেখতে হবে। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও যোগ করেন, "এ ঘটনায় যদি পুলিশের কোনো গাফিলতি থাকে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ সুপারকে অনুরোধ করা হবে।" এই মন্তব্যটি পুলিশের দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়েছে।

ঘটনার পটভূমি ও বিস্তারিত

ফতুল্লার শিবু মার্কেট এলাকায় প্রায় সাত শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তি ভোগদখল করে আসছিলেন। তবে ২০১৬ সাল থেকে তার জেঠাতো ভাই ওই জমিতে ভাগ আছে বলে দাবি করে আসছেন, যা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। জমির এই বিরোধ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

এই বিরোধের জের ধরে গত ২০ মার্চ ভোরে ফারুক হোসেনের জেঠাত ভাই রুবেল, আনিস সহ অর্ধশতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্র, রামদা, চাপাটি, লাঠিসোটা, রড, হাতুড়ি নিয়ে তাদের থাকার ঘর ভাঙচুর করে। এ সময় তারা পানির মোটর, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীর পরিবার ৯৯৯ নম্বরে কল করার পর ফতুল্লা থানা থেকে পুলিশ পাঠানো হয়, তবে প্রায় তিন ঘণ্টা পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এই ঘটনায় ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা এখন তদন্তাধীন রয়েছে।

এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানানো হচ্ছে। বিএনপির এই উদ্যোগকে সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক সহায়তার একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।