ঝিকরগাছায় বিএনপির যৌথ সংবাদ সম্মেলন: মুন্নীর ব্যর্থতা ঢাকতে নেতাদের দোষারোপের অভিযোগ
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নীর সাক্ষাৎকারের পাল্টা জবাব দিতে রোববার ঝিকরগাছা প্রেস ক্লাবে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেছে ঝিকরগাছা ও চৌগাছা উপজেলা বিএনপি। সংবাদ সম্মেলনে দলীয় নেতারা মুন্নীর বিরুদ্ধে নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে নেতাদের দোষারোপের অভিযোগ তুলেছেন।
মুন্নীর সাক্ষাৎকার ও বিএনপির প্রতিক্রিয়া
গত ১১ মার্চ যুগান্তর পত্রিকায় ‘হেরেছি পদধারী নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতায়’ শিরোনামে সাবিরা সুলতানা মুন্নীর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ঝিকরগাছা-চৌগাছার পদধারী নেতা ও মনোনয়নবঞ্চিতদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তিনি ভোটে পরাজিত হয়েছেন। তিনি দুই উপজেলার শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনকালীন ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা দাবি করেন, দলের নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতা নয়, মুন্নী পরাজিত হয়েছেন তৃণমূলের অনাস্থা এবং তার অহংকারের কারণে। নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে দলের নেতাদের দোষারোপ করছেন মুন্নী। তিনি সাক্ষাৎকারে কাল্পনিক, মিথ্যা ও মনগড়া অভিযোগ করেছেন।
ইমরান সামাদ নিপুণের বক্তব্য
ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমরান সামাদ নিপুণ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘সাবিরা সুলতানা মুন্নী প্রার্থী হওয়ায় তার যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রশ্নে প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কাছে সমূহ পরাজয়ের আশঙ্কায় দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেননি। সাবিরা সুলতানা দলীয় মনোনয়ন পেয়েও সন্দেহপ্রবণতায় তিনি নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করতে ব্যর্থ হন।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে নিজের সীমাহীন ব্যর্থতায় পরাজিত হয়ে দলীয় হাইকমান্ডের সহানুভূতি পেতে তিনি এখন বিএনপির জনপ্রিয় জ্যেষ্ঠ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, বিষোদগার ও চরিত্র হনন করে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার প্রদান করে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। সংবাদপত্রে তার দেওয়া সাক্ষাৎকারটি অকৃতজ্ঞতার চরম বহিঃপ্রকাশ ও নির্লজ্জ মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছু নয়।’
মুন্নীর প্রচারণা পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা
ইমরান সামাদ নিপুণ মুন্নীর নির্বাচনি প্রচারণা পদ্ধতিরও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘প্রার্থী পরিবর্তন না হওয়ায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে সংসদীয় আসন পুনরুদ্ধারের নির্বাচনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হই। কিন্তু নির্বাচনে এমপি পদে প্রার্থিতা দাবি করায় দলীয় প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নী নিজ দলের নেতাকর্মীদের প্রতিপক্ষ ভাবতে শুরু করেন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘তিনি নির্বাচনি প্রচারণার শুরু থেকে মূলধারার নেতাকর্মীদের পাশ কাটিয়ে নাজমুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের ব্যানারে তার কতিপয় বিশ্বস্ত ও পছন্দের নেতাকর্মীকে নিয়ে প্রচারণা শুরু করেন। মিথ্যা অভিযোগ করে ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বহিষ্কারের হুমকি ধামকি দেওয়া হয়েছে, যা নেতাকর্মীরা ভালোভাবে নেননি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মর্তোজা এলাহী টিপু, চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জহুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান প্রমুখ।
মুন্নীর জবাব
এ বিষয়ে সাবিরা সুলতানা মুন্নী বলেন, ‘যা সত্য, তাই আমি সাক্ষাৎকারে বলেছি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যেই তারা স্বীকার করে নিয়েছেন নির্বাচনে ধানের শীষের বিপক্ষে কাজ করেছেন। এরা একটি সংঘবদ্ধ রাজনৈতিক চক্র। যারা সবসময় বিশেষ বিশেষ সময়ে দলের বিপক্ষে কাজ করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে আ.লীগের সঙ্গে মিশে কাজ করেছেন। ৫ আগস্ট-পরবর্তী এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদকসহ নানা অপকর্মে জড়িতদের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন। আমি নির্বাচিত হলে, তাদের অনৈতিক কাজে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখেই তারা আমার বিরোধিতা করেছেন। শাক দিয়ে কখনো মাছ ঢাকা যায় না। নিজেদের অপকর্মের দোষ ঢাকতে যতগুলো নেতা এক জায়গায় হয়েছেন, ধানের শীষের ভোট করতে এরা কখনো একসঙ্গে হননি।’
এই সংবাদ সম্মেলনটি ঝিকরগাছা-চৌগাছা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে এবং বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভেদের চিত্র ফুটিয়ে তুলছে। উভয় পক্ষের বক্তব্যে নির্বাচনী পরাজয়ের কারণ নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
