খুলনার দৌলতপুরে বিএনপি নেতার পুত্র রাশিফুল আনাম রাশুকে গুলি করে হত্যা
খুলনায় বিএনপি নেতার পুত্র রাশিফুল আনাম রাশু নিহত

খুলনার দৌলতপুরে বিএনপি নেতার পুত্র রাশিফুল আনাম রাশুকে গুলি করে হত্যা

খুলনা মহানগরীর দৌলতপুর এলাকায় সোমবার দুপুরে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। দিনের আলোয় দুর্বৃত্তদের গুলিতে রাশিফুল আনাম রাশু (৩৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনার বিবরণ

সোমবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর দৌলতপুর কেডিএ কল্পতরু মার্কেটের সামনে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় রাশিফুল আনাম রাশু কল্পতরু মার্কেটের ভেতরে একটি দোকানে বসে কেরাম খেলছিলেন। এ সময় হঠাৎ দুই-তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক হেঁটে এসে তাকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ঘাতকদের ছোঁড়া তিনটি গুলি রাশুর মাথা ও ঘাড়ে বিদ্ধ হয়। গুলির শব্দে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যে মার্কেটের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আশরাফ জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের পরিচয় ও পুলিশের তদন্ত

নিহত রাশিফুল আনাম রাশু খুলনা মহানগর যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি শরিফুল আনামের পুত্র। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) সুদর্শন রায় হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা উদঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত থাকতে পারে, তবে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হয়নি।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনায় দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দারা গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই দিনের বেলায় এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয়রা জানান, রাশিফুল আনাম রাশু এলাকায় একজন পরিচিত ব্যক্তি ছিলেন এবং তার এই মর্মান্তিক মৃত্যু সমাজে একটি শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। পুলিশের দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।