ঝিনাইদহে সংঘর্ষে আহত বিএনপি কর্মী তরু মিয়ার মৃত্যু, উত্তেজনা অব্যাহত
ঝিনাইদহে জামায়াতের নারী কর্মীদের আলোচনা সভায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত বিএনপির কর্মী তরু মিয়া (৪৮) মারা গেছেন। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও আহতদের অবস্থা
একই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে যে, জামায়াতের নারী কর্মীদের একটি আলোচনা সভায় বিএনপির কর্মীরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ ঘটনায় তরু মিয়াসহ উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল।
তরু মিয়ার ব্যক্তিগত জীবন ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা
নিহত তরু মিয়ার বাড়ি মাধবপুর গ্রামে। তিনি দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ বিদেশে কাটানোর পর পাঁচ মাস আগে দেশে ফিরে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তার ছেলে শিপন রহমান ইউনিয়ন ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে পরিচিত। ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আবু কালাম জানান, জামায়াতের কর্মীদের হামলায় বিএনপির অন্তত আটজন নেতা–কর্মী আহত হন, যা এই সংঘর্ষের তীব্রতা নির্দেশ করে।
চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আহতদের ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তরু মিয়ার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ৮টার দিকে তিনি মারা যান। ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন তরু মিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও সতর্কতা ও শান্তি প্রচেষ্টার আহ্বান জানাচ্ছে।
