ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে তীব্র সংঘর্ষ, আহত ৪০
ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে দুই রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতের দিকে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চরগোলকনগর গ্রামে এ সহিংস ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয় প্রশাসনকে হিমশিম খাওয়ায়।
ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘর্ষের বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ভিজিএফ কার্ড বিতরণের সময় মির্জাপুর ইউনিয়নের চরগোলকনগর গ্রামে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সায়েম মণ্ডলের সঙ্গে যুবদল নেতা শামীম কথা বলতে যান। শামীম তাঁর সমর্থকদের জন্য কিছু কার্ড দাবি করলে সায়েম মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। শামীমের অভিযোগ, এ সময় সায়েম মণ্ডলের লোকজন তাঁকে মারার হুমকি দেয় এবং খুঁজতে থাকে, যা পরবর্তীতে সংঘর্ষের দিকে মোড় নেয়।
এই ঘটনার খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ এলাকায় আসে এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন। সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা বৈঠক হয়, কিন্তু বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে উভয় পক্ষ আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পরস্পরের ওপর হামলা করে, যা রাত ৮টা থেকে শুরু হয়ে প্রায় ১১টা পর্যন্ত থেমে থেমে চলে।
আহত ও ক্ষয়ক্ষতি
এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হন, যাদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে গ্রামের বেশ কিছু বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়, যা স্থানীয় সম্প্রতিতে আঘাত হানে।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হিমশিম খাওয়ায় পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির মোল্লা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে এবং সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
বিবদমান পক্ষের বক্তব্য
যুবদল নেতা শামীম বলেন, ‘ওয়ার্ড সভাপতি হিসেবে সায়েম মণ্ডলের কাছে অনেকগুলো কার্ড ছিল। আমি আমার কিছু সমর্থকের জন্য কার্ড চাইলে তিনি আমার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেন এবং তাঁর লোকজন আমাকে হুমকি দেন। সমঝোতা বৈঠকের নামে তাঁরা আমাদের ওপর হামলা করেছেন।’
অন্যদিকে ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি সায়েম মণ্ডল পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি নিয়ম অনুযায়ী সবাইকে কার্ড ভাগ করে দিয়েছি। কিন্তু শামীম যুবদল করে, সে আমার সঙ্গে মূল দল (বিএনপি) করে না, তাই তাঁকে কার্ড দিইনি।’
এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সামাজিক অস্থিরতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি রাখে।
