রাজশাহীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় ইউপি চেয়ারম্যান আহত, ভিজিএফ তালিকা ছিনতাই
রাজশাহীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় ইউপি চেয়ারম্যান আহত

রাজশাহীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় ইউপি চেয়ারম্যান আহত, ভিজিএফ তালিকা ছিনতাই

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দরিদ্র-অসহায়দের জন্য চাল বিতরণের ভিজিএফ কার্ডের তালিকায় নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিদের নাম তোলার দাবিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা নওপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদারকে মারধর করে মোটরসাইকেল, নগদ টাকা ও কার্ডের তালিকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের বৌ-বাজার সড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার বিস্তারিত ঘটনা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুর্গাপুর উপজেলায় বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় গরিব, দুস্থ ও হতদরিদ্রদের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ইউনিয়নে কার্ডের তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসে জমা দিতে যাচ্ছিলেন চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার।

অভিযোগ রয়েছে, এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল করিম, আফাজ উদ্দিন এবং ছাত্রদল নেতা বিপ্লব হোসেনসহ ১০-১৫ জন নেতাকর্মী তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের নামে ২৪০টি ভিজিএফ কার্ড দেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানের ওপর চাপ প্রয়োগ করেন। বিএনপি নেতাকর্মীরা পথরোধ করে কার্ডের তালিকা জমা দেওয়ার আগে তাদের দেওয়া নামগুলো তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান।

চেয়ারম্যান তাদের দাবি মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তার ওপর হামলা চালায়। মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে কিল-ঘুসি ও চড়-থাপ্পড় দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় আজাদ আলীকে।

ছিনতাই ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ

আহত চেয়ারম্যান আজাদ আলী সরদার অভিযোগে বলেন, "হামলাকারীরা আমাকে মারধরের পর আমার মোটরসাইকেলটি কেড়ে নিয়ে পুকুরে ফেলে দেন। পরে আমার ব্যাগে থাকা ভিজিএফ কার্ডের তালিকা, কাগজপত্র, ব্যাংকের চেক ও নগদ প্রায় ৪৯ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আমি পরিষদ থেকে ভিজিএফের তালিকা নিয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসে জমা দিতে যাচ্ছিলাম। পথে আমাকে থামিয়ে আফাজ উদ্দিন, সাবেক মেম্বার রেজাউল করিম ও ছাত্রদল নেতা বিপ্লব হোসেনসহ ১০-১৫ জন আমার ওপর হামলা চালায় এবং কাগজপত্র ও টাকা ছিনিয়ে নেয়। আমার মোটরসাইকেলটিও পুকুরে ফেলে দেয়। এটা একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী কাজ।"

হামলার শিকার চেয়ারম্যান আজাদ আলীকে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

পুলিশের তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ

দুর্গাপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম ঘটনাটির বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, "ঘটনার বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়ের করা হতে পারে এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত ত্বরান্বিত করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রেক্ষাপট

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভিজিএফ কার্ড বিতরণ নিয়ে পূর্ব থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দরিদ্রদের সহায়তা কার্যক্রমে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তারা বহুবার শুনেছেন। তবে সরাসরি চেয়ারম্যানের ওপর হামলা এবং সরকারি সম্পদ ছিনতাইয়ের ঘটনাটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার কামনা করেছেন। তারা বলেছেন, ভিজিএফের মতো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো উচিত নয় এবং এর মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্ররা বঞ্চিত হচ্ছেন।

রাজশাহী জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তারা ঘটনাটি মনিটরিং করছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভিজিএফ তালিকা পুনরুদ্ধার ও সংশ্লিষ্টদের শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা পুলিশের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছেন।