নারায়ণগঞ্জে ৮০ বছরের ঐতিহ্যবাহী লাশ গোসলের স্থান দখলের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আজিবপুর এলাকায় প্রায় ৮০ বছর ধরে ব্যবহৃত একটি লাশ গোসলের জায়গা দখল করে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে। নির্বাচনের পর সাবেক ও বর্তমান এমপির নাম ব্যবহার করে জায়গাটি দখলের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
ঐতিহাসিক পটভূমি ও কমিউনিটির ব্যবহার
স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ১৯৪৩ সালে সরকারি ‘কার্ড’ নিয়ে প্রায় ৪০টি উদ্বাস্তু পরিবার সিদ্ধিরগঞ্জের ওমরপুর এলাকায় বসতি স্থাপন করে। তখন থেকেই প্রায় এক শতাংশ আয়তনের একটি খোলা জায়গা কমিউনিটির প্রয়োজনে সংরক্ষিত ছিল। ওই এলাকার কেউ মারা গেলে সেখানে লাশ গোসল করানো হতো। দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি অলিখিতভাবে কমিউনিটির সদস্যরা ব্যবহার করে আসছেন, যা এলাকার ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে।
দখলের অভিযোগ ও বিএনপি কর্মীর ভূমিকা
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর আব্দুল মান্নান মনা ওরফে ড্রাইভার মনা নামে এক ব্যক্তি সেখানে পাকা ঘর নির্মাণ শুরু করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিএনপির কর্মী পরিচয়ধারী মনা জায়গাটি দখল করে গণেশ নামে এক হিন্দু ব্যক্তির কাছে বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন এবং এ বাবদ এক লাখ টাকা অগ্রিমও নিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযুক্ত মনা একসময় সাবেক সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন-এর গাড়িচালক ছিলেন। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান-এর নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
এলাকার বাসিন্দা রুবি আক্তার বলেন, “শৈশব থেকে দেখে আসছি, এখানে আমাদের মৃত স্বজনদের গোসল করানো হয়। এখন যদি জায়গাটি দখল হয়ে যায়, তাহলে আমরা বিপদে পড়ব। এটি শুধু জমি নয়, আমাদের শেষ বিদায়ের স্থান।” তার এই বক্তব্য এলাকার অন্যান্য বাসিন্দাদের উদ্বেগ ও ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটায়, যারা দীর্ঘদিন ধরে এই স্থানটি ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিতে ব্যবহার করে আসছেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য ও কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
অভিযুক্ত মনা ফোনে জানান, জায়গাটি আগে লাশ গোসলের জন্য ব্যবহার হতো—এ কথা স্বীকার করলেও তিনি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে তিনি আর কথা বলতে রাজি হননি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখলের কোনো সুযোগ নেই। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা-র ওসি জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা এলাকাবাসীর আশা জাগিয়েছে যে দ্রুত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।



