বাগেরহাটে বিএনপি কর্মী নিহত: রাজনৈতিক হামলার অভিযোগে উত্তেজনা
বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলায় এক বিএনপি কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (১ মার্চ) রাত সাড়ে দশটার দিকে খুড়িয়াখালী গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফুল ইসলাম মাসুম প্রাণ হারান। তিনি স্থানীয় বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার পরিবার এই ঘটনায় গভীর শোকে আচ্ছন্ন।
ঘটনার বিবরণ ও পরিবারের বক্তব্য
পরিবারের সদস্যদের বর্ণনা অনুযায়ী, আরিফুল ইসলাম মাসুম রাত আটটার দিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে খাবার গ্রহণ করে নিজ বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে স্থানীয় আফজাল বয়াতি ও বারেক শরীফের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দল, যার সদস্য সংখ্যা প্রায় ২০-২৫ জন, তার গতিরোধ করে মারধর শুরু করে। এই হামলার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম লিটন ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, "তারাবির নামাজের পর আমরা খবর পাই যে মাসুমকে মারধর করে আটকে রাখা হয়েছে। আমরা স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ও জামায়াত নেতাদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে তাকে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়, এবং তিনি ঘটনা বলতে গিয়ে হঠাৎ বমি করেন। তাকে দ্রুত শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।"
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও উত্তেজনা
শহিদুল ইসলাম লিটন আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনের পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এই সময়ে দুই দফায় হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে জামায়াত ও বিএনপি উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়। তিনি অভিযোগ করেন যে, পূর্ববর্তী ঘটনার জের ধরে জামায়াত কর্মীরা মাসুমকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালায় এবং তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
পুলিশের তদন্ত ও পদক্ষেপ
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামিনুল হক নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হামলার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। সোমবার বাগেরহাট জেলা হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে, এবং এর রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে। পুলিশ নিহতের পরিবার ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে।
এই ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, এবং পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
