যশোরে বিএনপি নেতা হত্যা মামলায় আরেক আসামি গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
যশোরে বিএনপি নেতা হত্যা মামলায় আরেক আসামি গ্রেপ্তার

যশোরে বিএনপি নেতা হত্যা মামলায় আরেক আসামি গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় মনিরুল ইসলাম নামের আরেক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এই হত্যা মামলা ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা রয়েছে। হত্যার দায় স্বীকার করে গতকাল রোববার সন্ধ্যায় তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করেছে।

গ্রেপ্তার ও জবানবন্দির বিস্তারিত বিবরণ

গ্রেপ্তারকৃত মনিরুল ইসলাম যশোর শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়া এলাকার আবদুল খালেকের ছেলে। গত শনিবার রাতে শহরতলীর ঝুমঝুমপুর মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল সন্ধ্যায় মনিরুলকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে তিনি জবানবন্দি দিয়েছেন। যশোর আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব আহম্মেদ ইমন আসামির জবানবন্দি গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) অলক কুমার দে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন, মনিরুলের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। আদালতে সোপর্দ হওয়ার পর তিনি বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি ও অন্যান্য গ্রেপ্তার

গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত আলমগীর যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার ইসহাক সড়কের ইন্তাজ চৌধুরীর ছেলে। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির স্ত্রী শামীমা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন আলমগীরের জামাতা পরশ, সহযোগী সাগর, মূল শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী ওরফে মিশুক, শাহীন কাজী ও মনিরুল। গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

হত্যার পরিকল্পনা ও অর্থের লেনদেন

জবানবন্দি দেওয়া আসামিদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, আলমগীর হোসেনকে হত্যা করতে আগে জামাতা পরশ খরচ ধরেছিলেন ১৫ লাখ টাকা। ঘটনার দিন হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ৫ লাখ টাকা দিতে চেয়েছিলেন। ওই দিন বিকেলে পরশ এক লাখ টাকা ও একটি পিস্তল দেন শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তীকে। হত্যার পর বাকি চার লাখ টাকা শংকরপুরের প্রিন্সের কাছ থেকে ধার নিয়ে রাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দিতে চেয়েছিলেন পরশ। বাকি ১০ লাখ টাকা সুবিধামতো সময়ে দেওয়া হবে বলে কথা দিয়েছিলেন। হত্যা মিশনে ১০ থেকে ১২ জন অংশ নেন।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম মোটরসাইকেলে ছিলেন অমিত ও শুটার মিশুক। পরের মোটরসাইকেলে আরও দুজন এবং তৃতীয় মোটরসাইকেলে ছিলেন তিনজন। ঘটনার দিন সন্ধ্যা ছয়টার দিকে আলমগীর হোসেন যখন মোটরসাইকেল চালিয়ে শংকরপুর বটতলা হয়ে ইসহাক সড়কে আসেন, তখন তিনটি মোটরসাইকেল তাঁকে অনুসরণ করতে থাকে। ইসহাক সড়কে আলমগীর হোসেন একটি দোকানে কিছু সময়ের জন্য দাঁড়ান। হত্যা মিশনের সদস্যরাও সেখানে দাঁড়িয়ে যান। এর মধ্যে একটি মোটরসাইকেল আগে চলে যায়। আলমগীর হোসেন যখন সাবেক কাউন্সিলর নয়নের অফিসের কাছাকাছি পৌঁছান, তখন চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করেন ত্রিদিব। এরপর চারজন দুটি মোটরসাইকেলে করে দ্রুত চলে যান গোলপাতা মসজিদের দিকে। আর তৃতীয় মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থল থেকে ঘুরিয়ে আবার বটতলার দিকে চলে গিয়েছিল।