হাট-বাজার ইজারা নিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবির অভিযোগ, যুবদল নেতার বিরুদ্ধে ভিডিও ভাইরাল
গুরুদাসপুর উপজেলায় হাট-বাজারের ইজারা নিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবির এক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাকিবুর রহমান রাজা নামে যুবদলের এক নেতার বিরুদ্ধে ইজারাদারের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের সামনে এই ঘটনাটি সংঘটিত হয়।
ওসির সামনেই ঘটে চাঁদা দাবি ও হুমকির ঘটনা
ঘটনার একটি ভিডিও গতকাল শুক্রবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের নিচতলায় যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান রাজা গালমন্দ করতে করতে ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম তপুর দিকে তেড়ে আসেন। তিনি স্পষ্টভাবে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এ সময় গুরুদাসপুর থানার ওসি শফিজ্জামানের পাশে চন্দ্রপুর তুলোধুনা হাটের ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম তপুসহ ৮ থেকে ১০ জন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিলেন। এক পর্যায়ে রাজা হাত উঁচিয়ে ওবায়দুল ইসলামের দিকে তেড়ে গিয়ে হুংকার দিয়ে বলেন, ‘টাকা না দিলে তোমার হাত-পা ভেঙে মাটিতে শুইয়ে ফেলব।’ ওসি শফিজ্জামান তখন সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রোজার দিন, আপনারা এখন চলে যান।’
ইজারা নিয়ে বিক্ষোভ ও অভিযোগের পাল্টা অভিযোগ
অভিযুক্ত রাকিবুর রহমান রাজা গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম তপু একই ইউনিয়নের মত্স্যজীবী দলের সাবেক সহসভাপতি। উভয়েই বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের অনুসারী বলে জানা গেছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে গুরুদাসপুরের ছয়টি ইউনিয়নের ১৩টি হাট-বাজার ইজারা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স কক্ষে এই দরপত্র উন্মুক্ত করা হয়।
ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম তপু অভিযোগ করে বলেন, ‘২১ হাজার টাকা সর্বোচ্চ দরে তুলোধুনা হাটটির ইজারা পেয়েছি। দরপত্রে অংশ নেওয়া যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান রাজা ইজারা না পেয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। ওসির সামনেই আমার কাছ থেকে তিনি ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এক পর্যায়ে আঙুল উঁচিয়ে হুমকি দিতে দিতে তেড়ে আসেন।’
অভিযুক্ত নেতার ব্যাখ্যা ও প্রতিবাদ
যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান রাজা এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, ‘ওবায়দুল ইসলাম তপুর কাছ থেকে আমার ব্যাবসায়িক লেনদেনের ৫ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। ইজারা শেষে আমি প্রকাশ্যে ঐ টাকা চেয়েছি। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।’ তিনি এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, যদিও এখন পর্যন্ত গুরুদাসপুর থানায় এ সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির কারণে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে বিষয়টি এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
