রাজশাহীর চারঘাটে বিএনপি নেতা হত্যা: মাহফিলের প্রধান অতিথি নিয়ে দ্বন্দ্বের জের
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে মাহফিলের প্রধান অতিথি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দলের এক নেতাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে জেলার ইউসুফপুর ইউনিয়নের সিপাইপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত এরশাদ আলীর (৬৫) বাড়ি সিপাইপাড়া এলাকায়। তিনি ইউসুফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
দুই পক্ষের তর্কাতর্কি ও পূর্ববর্তী ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুমার নামাজের পর স্থানীয় লোকজন মাহফিল আয়োজন নিয়ে মসজিদে আলোচনায় বসেন। এ সময় এক পক্ষ জেলা বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলকে প্রধান অতিথি করতে চায়, আর এরশাদ আলীসহ অন্যরা স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদকে প্রধান অতিথি করতে চায়। দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয় এবং আলোচনা ভেস্তে যায়।
উল্লেখ্য, এর আড়াই মাস আগেও একই বিষয়ে বিতর্ক হয়ে মাহফিল আয়োজন স্থগিত হয়। ওই ঘটনায় মারামারিতে চারজন আহত হন এবং একটি মামলা হয়েছে।
হত্যার বিস্তারিত ও পরিবারের বর্ণনা
নিহত এরশাদ আলীর পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত ৯টার দিকে এরশাদ আলী তারাবিহর নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের কয়েকজন অনুসারী তাঁর পথ রোধ করেন। একপর্যায়ে গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তাঁর লাশ বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।
নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা ছিল যা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ফলাফল।
পুলিশ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
চারঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'হত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। মরদেহের ময়নাতদন্ত হবে এবং তদন্ত চলছে।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, 'এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এর সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।'
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই ঘটনা এলাকায় ভীতির সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
