ঝিনাইদহে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ ১০ জন আহত
ঝিনাইদহে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে তিন পুলিশসহ ১০ জন আহত

ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের এক বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ১০ জন ব্যক্তি আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কালীগঞ্জ থানার সামনে অবস্থিত ধানের শীষের পরাজিত প্রার্থী রাশেদ খাঁনের দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভা চলাকালে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

সংঘর্ষের বিবরণ ও আহতদের অবস্থা

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আলোচনা সভা চলাকালে হঠাৎ করেই দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এই উত্তেজনা সরাসরি সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সংঘর্ষে জড়িত কিছু ব্যক্তি পুলিশ বাহিনীর ওপরও চড়াও হয়ে পড়েন। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ মোট ১০ জন ব্যক্তি আহত হন।

আহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন কালীগঞ্জ থানার এএসআই জাহিদ হোসেন, কনস্টেবল পিকলু ও সেলিম। আহত অন্যদের নাম ও পরিচয় এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। সকল আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

ঘটনার পটভূমি ও প্রতিক্রিয়া

কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা লুৎফুর রহমান লেন্টু জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত বিএনপি প্রার্থী রাশেদ খাঁনের নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয়ে একটি আলোচনা সভা চলছিল। এ সময় মহারাজপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম তার সমর্থকদের নিয়ে কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়।

কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, "থানায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিং করছিলেন। এ সময় থানার সামনেই বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়, এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ ১০ জন আহত হয়েছে।"

পরবর্তী পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা

ওসি জেল্লাল হোসেন আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ প্রশাসন ঘটনাটির তদন্ত ত্বরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের পর এলাকায় সাময়িকভাবে উত্তেজনা বিরাজ করলেও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। তবে এই ঘটনা রাজনৈতিক সহিংসতার একটি উদাহরণ হিসেবে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।