ঝিনাইদহে সংরক্ষিত নারী আসনে মাহাবুবা রহমান শিখার মনোনয়ন আলোচনায়
ঝিনাইদহে নারী আসনে মাহাবুবা রুশিখার মনোনয়ন আলোচনা

ঝিনাইদহে সংরক্ষিত নারী আসনে মাহাবুবা রহমান শিখার মনোনয়ন নিয়ে তোলপাড়

ঝিনাইদহ জেলায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন আইনজীবী মাহাবুবা রহমান শিখা, যিনি জেলার সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মসিউর রহমানের সহধর্মিণী। স্থানীয় রাজনৈতিক মহল মনে করছেন, তার মনোনয়ন বিএনপির জন্য একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

মসিউর রহমানের উত্তরসূরি হিসেবে মাহাবুবা রহমান শিখা

মসিউর রহমান ঝিনাইদহ-২ আসনের চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন এবং বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। তিনি মুক্তিযোদ্ধা, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঝিনাইদহের উন্নয়নের স্থপতি হিসেবেও খ্যাত। তার উন্নয়নমূলক কাজ ও জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক আজও জেলাবাসীর মুখে মুখে ফেরে। বলা হয়, ঝিনাইদহের প্রায় প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে তার হাতের ছোঁয়া রয়েছে এবং তার নেতৃত্বেই জেলাটি বিএনপির একটি শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়।

বিএনপির নির্বাচনী পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ জেলার চারটি আসনের মধ্যে মাত্র একটিতে জয়ী হতে পেরেছে বিএনপি। বাকি তিনটি আসনে দলটির ভরাডুবি হয়েছে, যা দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে, ঝিনাইদহ-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী এডভোকেট এম এ মজিদের পরাজয় দলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নকে দলকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

মাহাবুবা রহমান শিখার রাজনৈতিক ও সামাজিক ভূমিকা

মাহাবুবা রহমান শিখা দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছেন। তিনি নিম্নলিখিত দায়িত্বগুলো পালন করেছেন:

  • মুক্তিযোদ্ধা মসিউর রহমান মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের বর্তমান সভাপতি
  • ঝিনাইদহ ডায়াবেটিক সমিতি ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-ঝিনাইদহের সদস্য
  • বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থা-ঝিনাইদহের সহ-সভাপতি
  • জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান

ওয়ান ইলেভেন ও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের শিকার হলে তিনি দলকে সংগঠিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি দলের প্রতি অনুগত থেকে কাজ চালিয়ে যান।

মনোনয়নের সম্ভাব্য প্রভাব

স্থানীয়রা বিশ্বাস করেন, মাহাবুবা রহমান শিখার মনোনয়ন বিএনপির রাজনৈতিক পুনরুত্থান ও জনগণের আস্থা ফিরে পাওয়ার একটি বড় সুযোগ তৈরি করবে। তিনি ঝিনাইদহ-২ আসনের নারী সংসদ সদস্য হিসেবে দলকে সংগঠিত করে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। তার পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। জেলার সচেতন মহল মনে করে, তার নেতৃত্বে স্থানীয় নেতৃত্বের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।

সর্বোপরি, ঝিনাইদহে সংরক্ষিত নারী আসনে মাহাবুবা রহমান শিখার মনোনয়ন আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।