সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের আলোচনায় তানজিন চৌধুরী লিলি: বিএনপির নারী নেত্রীর উত্থান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই দেশজুড়ে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বৃহত্তর ময়মনসিংহের অন্যতম নারী নেত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক পথচলা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংসদের দোরগোড়ায়
তানজিন চৌধুরী লিলির রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর থেকে, যেখানে তিনি সক্রিয়ভাবে রাজপথে অবস্থান নিয়েছিলেন। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোক্তার উদ্দিন চৌধুরী ও মরিয়ম আক্তারের কন্যা লিলি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে গৌরীপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে তার আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়।
২০০৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শামসুন্নাহার হল শাখার আহ্বায়ক এবং পরবর্তীতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১/১১ ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলনে সম্মুখসারিতে থেকে দীর্ঘদিন মামলায় অভিযুক্ত আসামি ছিলেন লিলি। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তিনি মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন, যা তার সংগ্রামী চরিত্রকে তুলে ধরে।
স্থানীয় থেকে জাতীয় পর্যায়ে: নির্বাচনী সাফল্য ও দায়িত্ব
২০০৯ সালে গৌরীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে লিলি স্থানীয় রাজনীতিতে তার দক্ষতা প্রমাণ করেন। এরপর থেকে তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতির পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতির পাশাপাশি তিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শামসুন্নাহার হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় ময়মনসিংহ জেলার আসনগুলোতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারে নেমে নারীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করে বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন লিলি। স্থানীয়রা মনে করেন, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেলে তিনি ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ দেশের নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।
ক্রীড়া ও নেতৃত্বে উজ্জ্বল অর্জন
রাজনীতির পাশাপাশি ক্রীড়া ক্ষেত্রেও তানজিন চৌধুরী লিলির সাফল্য প্রশংসনীয়। তিনি জাতীয় ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে একাধিকবার অ্যাথলেটিক্স, হ্যান্ডবল ও ফুটবলে স্বর্ণ ও রৌপ্যপদক লাভ করেছেন। ২০০৫ সালে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের হাত থেকে ‘শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ’ সম্মাননা পান লিলি। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের আমন্ত্রণে ইন্টারন্যাশনাল ভিজিটর লিডারশিপ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন তিনি, পাশাপাশি থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
স্থানীয় সমর্থন ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা
ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য তাজউদ্দিন ভূট্টোর মতে, লিলি আপা দলের আন্দোলন সংগ্রামে সবসময় সামনে থেকে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি ময়মনসিংহের নারী নেতৃত্বের আইডল হিসেবে বিবেচিত হন। সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে তার মনোনয়নের আলোচনা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে, এবং অনেকেই রাজপথের এই নেত্রীকে সংসদে দেখতে চান।
তানজিন চৌধুরী লিলি নিজেই বলেন, “দলের সংগ্রামে ছিলাম, দুঃসময়ে প্রতিটি কর্মসূচি পালন করেছি। দলের জন্য নিবেদিত ছিলাম এবং জিয়া পরিবারের দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। কাজের মূল্যায়ন দল করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।” তার এই উক্তি তার আনুগত্য ও প্রতিশ্রুতিকে প্রতিফলিত করে।
সর্বোপরি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী আলোচনায় তানজিন চৌধুরী লিলির নাম উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চারিত হচ্ছে। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ক্রীড়া সাফল্য এবং স্থানীয় জনসমর্থন তাকে সংরক্ষিত আসনের জন্য একটি শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ভবিষ্যতে তার ভূমিকা দেশের নারী রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
