বাউফলে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের অভিযোগে মানববন্ধন
বাউফলে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি অভিযোগে মানববন্ধন

বাউফলে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের অভিযোগে মানববন্ধন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে এক বিএনপি নেতা ও তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার দুপুরে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের খেয়াঘাট এলাকায় সংবাদ সম্মেলনের পর আয়োজিত এ মানববন্ধনে পাঁচ শতাধিক নারী ও পুরুষ অংশ নেন। ঘণ্টাব্যাপী এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন।

অভিযোগের মূল বিবরণ

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. রুহুল রাঢ়ী (৪২) ও তাঁর বাহিনীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন। তাঁরা অভিযোগ করেন যে, রুহুল রাঢ়ী ও তাঁর বাহিনীর কারণে ইউনিয়নবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। এলাকাবাসী নিজেরা নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছেন না, এবং তাঁদের জমি জোর করে তরমুজ চাষিদের কাছে বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এক কৃষক তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, তরমুজখেতের প্রতি তাওয়া তৈরি করতে তাঁরা তিন টাকা পান, সেখান থেকে রুহুলের বাহিনীকে তাওয়াপ্রতি এক টাকা চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে তাঁদের মারধর করা হয়। এ চাঁদাবাজি বন্ধের জোর দাবি জানানো হয় মানববন্ধনে।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও দাবি

চরওয়াডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. আহসান হাবিব বলেন, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের মানুষের উপার্জনের দুটি প্রধান পথ হলো কৃষি ও নদীতে মাছ ধরা। প্রতিনিয়ত তাঁদের চাঁদা দিতে হয়, না দিলে অত্যাচার করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এত দিন নীরবে অত্যাচার সহ্য করে আসছিলেন তাঁরা, কিন্তু এখন এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা চাঁদাবাজি ও নির্যাতন বন্ধ এবং নদীবেষ্টিত এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সেখানে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানান। তাঁরা মনে করেন, পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হলে এলাকার মানুষ নিরাপত্তা পাবে এবং অপরাধ কমবে।

বিএনপি নেতার প্রতিক্রিয়া

অভিযোগের জবাবে বিএনপির নেতা রুহুল রাঢ়ী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর যাঁরা অত্যাচার-নির্যাতন করেছেন, তাঁরা তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, যাঁরা মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন, তাঁদের কয়েকজন জামায়াত ছাড়া সবাই আওয়ামী লীগের। রুহুল রাঢ়ী আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং এ ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

পুলিশের বক্তব্য

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি এলাকাবাসীকে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানান এবং পুলিশের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে, এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে। মানববন্ধনটি এলাকার সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।