সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় শাকিলা ফারজানা শীর্ষে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের আনন্দ ম্লান হতে না হতেই এখন সকলের দৃষ্টি সংসদের সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের দিকে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন আগামী রমজান মাসেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। ফলে বিএনপি ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে যোগ্য ও ত্যাগী নারী নেত্রীদের নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ ও আলোচনা জোরেশোরে শুরু হয়েছে।
কে এই ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা?
চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকার সুপরিচিত মুখ ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা বর্তমানে সংরক্ষিত নারী আসনের 'হেভিওয়েট' প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন। তিনি চট্টগ্রাম-৫ সংসদীয় আসনের সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক হুইপ মরহুম সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের জ্যেষ্ঠ কন্যা। পিতার উত্তরসূরি হিসেবে তিনি চট্টগ্রামের রাজনীতিতে অত্যন্ত সক্রিয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার: বিগত সরকারের আমলে শাকিলা ফারজানা চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার সম্মুখীন হন। ২০১৫ সালে জঙ্গি সংগঠন 'হামজা ব্রিগেড'-কে অর্থায়নের মিথ্যা অভিযোগ এনে র্যাব তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলায় তিনি দীর্ঘ ১০ মাস ৮ দিন কারাবরণ করেন। বিএনপি শুরু থেকেই এই মামলাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে চিহ্নিত করে আসছিল। অবশেষে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৫ সালের ১০ মার্চ আদালত তাকে ও অন্যান্য আসামিদের নির্দোষ ঘোষণা করে মামলা থেকে খালাস দেন।
রাজনৈতিক ও পেশাগত জীবন
পেশাগত জীবনে একজন সফল আইনজীবী শাকিলা ফারজানা ২০০৯ সাল থেকে পুরোপুরি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তার রাজনৈতিক পদযাত্রায় উল্লেখযোগ্য মাইলফলকসমূহ:
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের মানবাধিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন
- পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সম্পাদক এবং বর্তমানে যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন
- ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন
- ২০২৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হন
- বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন
মনোনয়নের সম্ভাবনা ও মানদণ্ড
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, সংরক্ষিত নারী আসনে যেসব নেত্রী রাজপথে সক্রিয় ছিলেন এবং জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এই মানদণ্ডে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।
দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রাজপথে এবং আইনি অঙ্গনে বিএনপির নীতি-আদর্শ বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিগত সরকারের সময় দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে গিয়ে তিনি মামলার শিকার হন। বিশেষ করে দলীয় নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা প্রদান এবং মানবাধিকার রক্ষায় তার ভূমিকা দলের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
স্থানীয় সমর্থন ও প্রত্যাশা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় শাকিলা ফারজানা চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও আংশিক বায়েজিদ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের বিজয় নিশ্চিত করতে নারীদের সঙ্গে উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ করে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
চট্টগ্রাম ও হাটহাজারী বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, শাকিলা ফারজানা সংকটের সময়ে দলের পাশে অটল ছিলেন। তার মতো উচ্চশিক্ষিত, লড়াকু ও ত্যাগী নেত্রীকে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য মনোনীত করলে সংসদে নারীর ক্ষমতায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং চট্টগ্রামের মানুষের প্রত্যাশা ও দাবি বলিষ্ঠভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়ে সংসদে গেলে চট্টগ্রাম অঞ্চলসহ সারাদেশের নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ক্ষমতায়নে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন। তিনি দলের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন বলেও স্থানীয়রা উল্লেখ করেন।
শাকিলা ফারজানার বক্তব্য
ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা নিজেই তার সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন: "আমি দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করে চলেছি। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে এবং জিয়া পরিবারের দুঃসময়ে আমি অবিচলভাবে পাশে থেকেছি। দলের নেতৃত্বের প্রতি আমার আনুগত্য ও নিষ্ঠা সর্বদা অটুট রয়েছে। আমার একমাত্র লক্ষ্য জনসেবা এবং দলের সঙ্গে থেকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাওয়া। দলের প্রতি আমার আনুগত্য ও ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করে হাইকমান্ড আমার কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।"
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রক্রিয়া যেভাবে এগোচ্ছে, তাতে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানার মনোনয়নের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। তার রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, আইনি পেশাদারিত্ব, এবং দলের প্রতি অবিচল আনুগত্য তাকে এই প্রতিযোগিতায় বিশেষ সুবিধা দিয়েছে। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে তার শক্ত অবস্থান এবং স্থানীয় জনসমর্থনও তার মনোনয়নের পক্ষে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষকরা মত প্রকাশ করেছেন।
