চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আটজন আহত, পুলিশ তদন্তে নামল
কর্ণফুলীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আটজন আহত

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আটজন আহত

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নের ফাজিলখাঁর হাট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে সালাহউদ্দিন নামে স্থানীয় এক জামায়াতকর্মীর দোকানে চা খেতে যান বড়উঠান ইউনিয়ন কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনজুর, যুবদলের কর্মী মো. ইমন ও মোহাম্মদ ফারুক। সেখানে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলাপের এক পর্যায়ে দোকানি সালাহউদ্দিনের সঙ্গে তাঁদের কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। খবর পেয়ে সেখানে বিএনপি ও জামায়াতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে জড়ো হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

আহত ব্যক্তিদের পরিচয় ও চিকিৎসা

আহত ব্যক্তিরা হলেন শাহেদুল আলম, মো. ইমন, মো. মনজুর ও মোহাম্মদ ফারুক, মোহাম্মদ এনাম, সাজ্জাদ হোসেন, মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন ও মোহাম্মদ আবির। তাঁদের মধ্যে চারজন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী এবং বাকিরা জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে শাহেদুল আলমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের পরের ঘটনাপ্রবাহ

সংঘর্ষের ঘটনার পর উপজেলার পিএবি সড়কের ফাজিলখাঁর হাটে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর কর্ণফুলী উপজেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি মো. আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচনের আগে মাদকদ্রব্যসহ বিএনপির একজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই ঘটনার পর থেকে আমাদের নেতা-কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাদের চার নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।’

উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মূলত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে জামায়াতের লোকজন হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন। এতে আমাদের চারজন আহত হয়েছেন।’ জানতে চাইলে কর্ণফুলী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. জামাল উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এই সংঘর্ষটি স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ ও তদন্তের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার আশা করা হচ্ছে।