ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএনপি কর্মীদের বাধায় রুমিন ফারহানার শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন ব্যর্থ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে সদ্য নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাধার মুখে শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি। সরাইল উপজেলায় এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে তার সমর্থকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবরোধ তৈরি করেন, যা ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি করে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
শুক্রবার দিবাগত রাতে রুমিন ফারহানা সরাইলের শহীদ মিনারে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য যান। তবে, সরাইল উপজেলা সাবেক বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারের নেতৃত্বে একদল যুবক মিছিল নিয়ে এসে তাকে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে ও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে, তিনি ফুল না দিয়েই শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
এই ঘটনার প্রতিবাদে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা শুক্রবার রাত সাড়ে বারোটার দিকে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ও বাঁশে অগ্নিসংযোগ করে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় কমপক্ষে ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়, যা স্থানীয় যানবাহন চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটায়। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
রুমিন ফারহানার প্রতিক্রিয়া ও অভিযোগ
ঘটনার পর রুমিন ফারহানা তার গ্রামের বাড়ি শাহবাজপুরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন যে, পরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এটি বিএনপির কিছু গোষ্ঠীর পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার একটি অপচেষ্টা। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘বিএনপি যদি এখনই মাঠ পর্যায়ে তাদের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ না করে, এর পরিণাম ভয়াবহ হবে।’
তিনি আরও জানান যে, এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে এবং তার এক আহত কর্মী আব্দুল আহাদের অবস্থা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। রুমিন ফারহানার ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা আনোয়ার হোসেন মাস্টারসহ দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের পদক্ষেপ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানিয়েছেন যে, এই ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। উত্তেজনা প্রশমনের জন্য ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে, এই ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ নজরদারি বাড়িয়েছে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছে।
