পটুয়াখালীতে ছাত্রদল নেতার গ্রেপ্তারে বাধা: পুলিশের সঙ্গে তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা
ছাত্রদল নেতার গ্রেপ্তারে বাধা: পুলিশের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা

পটুয়াখালীতে ছাত্রদল নেতার গ্রেপ্তারে বাধা: উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ওয়ারেন্টভুক্ত ছাত্রদল নেতা রাকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তারে বাধা দিয়েছেন স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আবুল বশার ও তাঁর অনুসারীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও আকারে ছড়িয়ে পড়েছে।

গ্রেপ্তার প্রচেষ্টায় বাধা ও উত্তেজনা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দশমিনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম গতকাল রাতে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মোতাবেক ছাত্রদল নেতা রাকিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে যান। এ সময় আবুল বশার ও তাঁর প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন অনুসারী পুলিশকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে গ্রেপ্তারে বাধা দেন। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্য ও ছাত্রদল কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘ বাগ্‌বিতণ্ডা চলে।

এসআই মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানোর পর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়। তারপরই আসামিকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর আদালত রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।

ছাত্রদল নেতার বক্তব্য ও পরবর্তী ঘটনা

বাগ্‌বিতণ্ডার সময় আবুল বশার ও তাঁর অনুসারীরা পুলিশকে বলেন, ‘বিএনপির লোক আপনি থানায় নিতে পারবেন না। তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত মানছি, অন্য কিছু না। আমরা গণঅধিকার করি না, বিএনপি করি। দুই আসামিকেই নিতে হবে।’ এই ঘটনার পর, গ্রেপ্তারের জেরে গতকাল রাতে উপজেলা ছাত্রঅধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক হাসান মাহামুদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং উপজেলা গণঅধিকারের সদস্যসচিব মিলন মিয়ার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ঘটে।

হাসান মাহামুদ বর্তমানে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বিষয়ে আবুল বশারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি, যা ঘটনার প্রেক্ষাপটে আরও প্রশ্ন উত্থাপন করছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

এই ঘটনা স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে পুলিশ ও ছাত্রদল কর্মীদের মধ্যে সংঘাতের দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন, বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সময়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই ঘটনাটি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝেমধ্যেই প্রকাশ পায়।