বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকারের শুভসূচনা: মন্ত্রীদের দায়িত্ব গ্রহণ ও জনকল্যাণে প্রতিশ্রুতি
বিএনপির নতুন সরকারের শুভসূচনা: মন্ত্রীদের দায়িত্ব গ্রহণ

বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকারের শুভসূচনা: মন্ত্রীদের দায়িত্ব গ্রহণ ও জনকল্যাণে প্রতিশ্রুতি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে নবনিযুক্ত মন্ত্রীগণ অফিসে উপস্থিত হয়ে দায়িত্ব পালন করতে শুরু করেছেন। তাঁরা গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতায় আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন, যা সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ইঙ্গিত বহন করছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ও মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক

নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী সপ্তাহের বন্ধের দিন শনিবারেও অফিসে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে বর্তমানে পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষ্যে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধন এবং গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাভাবিক রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, সকল মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, নতুন প্রধানমন্ত্রী পবিত্র ঈদুল ফিতরের পূর্বেই জনসাধারণের কষ্ট লাঘবে 'ফ্যামিলি কার্ড' প্রকল্প চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ও জনমনে শান্তি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, মব সন্ত্রাসের দিন শেষ হয়ে গেছে। নতুন সরকারের শুরুটা ইতিবাচক হওয়ায় জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরে আসতে শুরু করেছে। গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা করা হলেও, মব সহিংসতাসহ নানা কারণে জনমানস থেকে ভয় ও ভীতি দূর করা সম্ভব হয়নি।

একটি গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিকদের চার প্রকারের স্বাধীনতা রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেগুলো হলো: মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা, ভয় ও দারিদ্র্য থেকে স্বাধীনতা এবং চলাফেরার স্বাধীনতা। ভয়ভীতিহীন জীবনযাপন ছাড়া কোনো নাগরিকের অধিকার পূর্ণতা পায় না।

জনগণের প্রত্যাশা ও সরকারের দায়িত্ব

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মানুষের চাওয়া-পাওয়া সাধারণত খুবই মৌলিক। তারা কে ক্ষমতায় আছেন বা আসবেন, তা নিয়ে অধিকাংশ সময় তেমন মাথা ঘামান না। তাদের মূল চিন্তা হলো জীবন-জীবিকার নিশ্চয়তা ও জানমালের নিরাপত্তা বিধান। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ধীরে ধীরে সমাজ থেকে ভয় ও ভীতি দূর হতে শুরু করেছে, যা বর্তমান সময়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

ব্যবসায়-বাণিজ্য ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ পরিস্থিতিতেও এই ইতিবাচক পরিবেশের প্রভাব পড়বে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। সরকারের দায়িত্বে যারা রয়েছেন, তারা ধীরে ধীরে চেষ্টা করবেন যাতে এই পরিস্থিতির আরো উন্নয়ন সাধন করা যায়।

তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি

তারেক রহমান ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন যাপন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তাকে গোছালো, উদার ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তিনি ইতিমধ্যে রাজনীতি থেকে প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণতা দূর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। সম্ভবত তার কারণেই কার্যক্রম-নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন জেলায় তাদের দলীয় অফিস খুলতে শুরু করেছে।

তাদের কাছেও সরকারের এই শুরুটা একটি শুভ লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে তাদেরও মনে রাখতে হবে, এত তাড়াহুড়ার কোনো দরকার নেই। ট্রুথ কমিশন গঠনের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য ও পুনর্মিলনের বিষয়টিও অসম্ভব নয়।

ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও সমাপ্তি

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে: মর্নিং শোজ দ্য ডে। অর্থাৎ সকালই বলে দেয় দিনটি কেমন যাবে। মাত্র কয়েক দিনের সরকারের শুরুটা যখন ভালো হয়েছে, তখন আশা করা যায়, মাঝের ও শেষটাও ভালো হবে। কোনো দেশের কোনো সরকারই জনগণের সকল চাহিদা মেটাতে পারে না, কারণ মানুষের চাহিদার আসলে শেষ নেই।

তবে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে নতুন সরকারকে। বর্তমানে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। ভাঙিয়া পড়া বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলি মেরামতে মনোনিবেশ করাও বাঞ্ছনীয়। এই বিষয়ে সরকারপ্রধান সচেতন আছেন বলে তার কথাবার্তায় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।

মোদ্দা কথা, নতুন সরকারের আমলে শীঘ্রই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক তথা সর্বক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি। তাই সরকারের শুভসূচনাকে আমরা স্বাগত জানাই। সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য রইল শুভকামনা।