বিএনপি সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদের কিশোর গ্যাং বিরোধী জোরালো আহ্বান
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ সামাজিক মাধ্যমে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করে এই বিষয়ে জোরালো বক্তব্য রাখেন।
কিশোর গ্যাংয়ের তালিকা তৈরি ও রাজনৈতিক শেল্টার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
লুৎফুল্লাহেল মাজেদ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘প্রতিটি এলাকায় কিশোর গ্যাং নিয়ে আওয়াজ তুলুন। এদের নাম, বাবার নাম, ছবিসহ লিস্ট করুন। এদেরকে দয়া করে বলব ভালো হয়ে যেতে। এদের বিরুদ্ধে সবাই আওয়াজ তুলুন। এদের রাজনৈতিকভাবে কোনো নেতা শেল্টার দিলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এদেরকে (কিশোর গ্যাং) সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এলাকাছাড়া করুন। কোনো মেয়েকে যদি এরা কেউ উত্ত্যক্ত করে, এদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। আমার এলাকায় প্রত্যেক মেয়েকে স্কুলে যেতে হবে নিরাপদে। কেউ ভয় পাবেন না, সাহসী হোন। আমরা পারবই।’
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
এই পোস্টের মন্তব্যে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা সম্পর্কে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাখুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক হাশিম উদ্দিন লিখেছেন, ‘এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। সাম্প্রতিককালে সারা দেশেই কিশোর গ্যাং নামের এক উপদ্রব সৃষ্টি হয়েছে। এরা অনেকটা প্রকাশ্যে সামাজিক বিভিন্ন অপরাধ করে বেড়ায়, রাস্তাঘাটে স্কুলগামী মেয়েদের ইভ টিজিং–সহ মোবাইলে ছবি, ভিডিও ধারণ করে। এদের এখনই থামাতে না পারলে আমাদের আগামী দিনগুলো আরও অন্ধকারের মুখোমুখি হবে। সবচেয়ে ভালো হয়, স্কুল টাইমে মাঝে মাঝে পুলিশি টহল চালু করা।’
অন্যদিকে, রাসেল পাঠান নামে একজন মন্তব্য করেন, ‘ভাই, উচাখিলা বাজারে কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব বেশি। এদের কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপদে জীবন যাপন করতে পারছে না। উচাখিলা বাজারে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করছে। চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবারিসহ নানা রকম অপকর্মে লিপ্ত হয়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। তাই দ্রুত এদেরকে আইনের আওতায় আনা জন্য আপনার নিকট অনুরোধ করা হলো।’
রমজান উপলক্ষে সামাজিক উদ্যোগ
এর আগে, বুধবার বিকেলে লুৎফুল্লাহেল মাজেদ রমজান মাস উপলক্ষে সুলভ মূল্যে গরুর মাংস বিক্রি ও বাজার মনিটরিং করার জন্য দল গঠনের আহ্বান জানান, যা মানুষের প্রশংসা পায়। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি রমজান মাস উপলক্ষে সুলভ মূল্যে উপজেলায় গরুর মাংস বিক্রি করতে চাই। আমি সবার সহযোগিতা চাই। গতবার যে প্রতিযোগিতা ছিল, আমি চাই সকল ইসলামি দলও এটা করুক। অন্তত গরিব মানুষগুলোর সাহায্য হবে। রাজনীতি মানুষের কল্যাণে হোক। সবাই মিলে আমরা ভালো ঈশ্বরগঞ্জ চাই। জাতীয়তাবাদী দল আমরা মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ হই।’
পরবর্তীতে, তিনি আরেকটি স্ট্যাটাসে প্রতিটি ইউনিয়নে দল-মতনির্বিশেষে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে বাজার মনিটরিং টিম গঠনের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ইউনিয়নে দল–মতনির্বিশেষে গ্রহণযোগ্য লোক দিয়ে বাজার মনিটরিং টিম গঠন করুন। পবিত্র রমজানে কেউ সিন্ডিকেট করে দাম যেন বাড়াতে না পারে। যেখানে বাজার কমিটি আছে তারা করবে, যেখানে নাই, সেখানে বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা করবেন। তবে কমিটি রাজনৈতিকভাবে করবেন না। সকল দায়িত্বশীল জেন–জি সবাইকে নজর রাখার অনুরোধ করা গেল।’
লুৎফুল্লাহেল মাজেদের এই উদ্যোগগুলো স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা ও জনকল্যাণমূলক কাজে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা তুলে ধরছে বলে মনে করা হচ্ছে।
