প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনকে মন্ত্রিত্ব প্রদান করে তাকে মূল্যায়ন করেছেন। মঙ্গলবার টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর কুমিল্লার সর্বস্তরের মানুষ এই সিদ্ধান্তে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীকে ইনসাফের প্রতীক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
কুমিল্লাবাসীর প্রশংসা
কুমিল্লা-৬ আসনের বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করছেন। তারা মনে করেন, হাজী ইয়াছিন দলের দুর্দিনে কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করেছেন, তাই তার মূল্যায়ন ন্যায়সঙ্গত। কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ইয়াছিন নির্যাতিত নেতাকর্মীদের আশ্রয় ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে দলের পাশে থেকেছেন।
নির্বাচনী পটভূমি
জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে হাজী ইয়াছিনের অনুসারীরা দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালান। পরে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৬ আসনে মনোনয়ন জমা দেন। তবে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে দলীয় প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীকে বিজয়ী করতে ভূমিকা রাখেন।
ইয়াছিনের অবদান
হাজী ইয়াছিনের উদ্যোগে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিরোধ নিরসন হয়, যেখানে বিএনপির প্রার্থীরা জয়লাভ করেন। স্থানীয়রা জানান, কুমিল্লার আটটি আসনে বিএনপির জয়ের মধ্যে পাঁচটিতে তার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির নির্বাচনি সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিক জীবন
হাজী ইয়াছিন ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য মনোনীত হন। ২০০৯ সালে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হন। পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০২২ সালের ৩০ মে তাকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয় এবং ২০২৫ সালের ১২ মার্চ বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত হন।
ইয়াছিনের প্রতিক্রিয়া
হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে নয়, গোটা কুমিল্লাকে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব এবং দলের স্বার্থ রক্ষা ও জনসেবায় সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখব।
এই ঘটনায় কুমিল্লাবাসীর মধ্যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, যা রাজনৈতিক সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচারের ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
