বিএনপি সংসদ সদস্যের অভিযোগ বাক্স: চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস রুখতে অভিনব উদ্যোগ
বিএনপি সংসদ সদস্যের অভিযোগ বাক্স, চাঁদাবাজি রুখতে উদ্যোগ

চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস রুখতে বিএনপি সংসদ সদস্যের অভিযোগ বাক্স স্থাপন

চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া। তিনি কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই) আসনে ‘অভিযোগ বাক্স’ স্থাপনের কার্যক্রম শুরু করেছেন। এরই অংশ হিসেবে সোমবার সন্ধ্যায় নাঙ্গলকোট বাজারের বটতলা এলাকায় প্রথম অভিযোগ বাক্সটি স্থাপন করা হয়েছে।

ময়মনসিংহে সংসদ সদস্যের মাইকিং ও সতর্কতা

এদিকে ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানের পক্ষ থেকে এলাকায় ব্যাপক মাইকিং করা হয়েছে। মাইকিংয়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানানো হয়। এলাকায় কেউ চাঁদাবাজি বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম করার চেষ্টা করলে তাকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গফরগাঁও বাজারের সকল ব্যবসায়ী ও পৌরবাসীকে মাইকিংয়ের মাধ্যমে জানানো হয়, ‘কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিপন্থী বা বেআইনি কর্মকাণ্ড করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করতে অনুরোধ করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামানকে জানানো যাবে। বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

অভিযোগ বাক্সের কার্যক্রম ও জনগণের প্রতিক্রিয়া

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার স্থাপিত অভিযোগ বাক্সে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী চাঁদাবাজি অথবা অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকলে দয়া করে নির্দ্বিধায় লিখিত অভিযোগ জমা দিন। নিবেদক—মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, এমপি।’

গফরগাঁও পৌর এলাকার বাসিন্দা আবদুল আউয়াল এ বিষয়ে বলেন, ‘এমপি হয়েই চাঁদাবাজি বন্ধে এমপির মাইকিং এলাকাবাসীর মধ্যে একধরনের আশা জাগিয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপ ও এলাকায় শান্তি ফেরাতে এমপির সঙ্গে সকল শ্রেণি–পেশার মানুষকেও সহযোগিতা করতে হবে, এতে এলাকার মানুষই ভালো থাকবে।’

সংসদ সদস্যদের দৃঢ় অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে নিজের নির্বাচনী এলাকার দুটি উপজেলা পরিষদ, দুটি থানায় এবং গুরুত্বপূর্ণ সব এলাকায় একইভাবে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করা হবে। শিগগিরই থানা ও উপজেলায় স্থাপন করা অভিযোগ বাক্স স্টিল দিয়ে নির্মাণ করা হবে, যার মধ্যে থাকবে তালার ব্যবস্থা। সেই তালার চাবি শুধু সংসদ সদস্যের কাছে থাকবে এবং তিনি এলাকায় অবস্থানকালে নিজেই তালা খুলে অভিযোগগুলো দেখবেন।

মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি। নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান, থানা ও উপজেলা কার্যালয়ে আমরা অভিযোগ বাক্স স্থাপন করছি। যে কেউ সম্পূর্ণ নাম গোপন রেখে এসব বাক্সে অভিযোগ জানাতে পারবেন। প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে তাদের পাহারাদার হবার জন্য। আমি তাদের পাহারাদার হয়ে থাকতে চাই। বিএনপি আমার দল। কিন্তু আমি জনগণের এমপি। আমার দলের কোনো নেতা–কর্মী অপরাধ করলে আরও কঠোর হব।’

ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্যের বার্তা

মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান সোমবার দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। তিনি লেখেন, ‘বিশৃঙ্খলা, বেআইনি কর্মকাণ্ড জড়িতরা কেউ দলের লোক হতে পারে না। এদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যায়, অপরাধে জড়িতদের কোনো ছাড় নয়। অপরাধীর একমাত্র পরিচয় অপরাধী। যেকোনো মূল্যে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা, সর্বস্তরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করা, বেকারদের কর্মসংস্থানসহ জনগণের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নই আমাদের লক্ষ্য।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমরা সংঘাত নয়—সমাধানে বিশ্বাস করি। ভয় নয়—ভরসায় বিশ্বাস করি। হিংসা নয়—উন্নয়নে বিশ্বাস করি। দেশ আগে, দল পরে—জনগণই আমাদের শক্তি।’

এই উদ্যোগগুলো নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের অপরাধ বিরোধী জোরালো অবস্থান ও জনগণের সঙ্গে প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এলাকাবাসীরা আশা প্রকাশ করছেন যে, এ ধরনের পদক্ষেপ অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে।