বিএনপি 'ছায়া মন্ত্রিসভা' গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায়
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিরোধী দলের 'ছায়া মন্ত্রিসভা' গঠনের সিদ্ধান্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিএনপির গুলশান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংসদ সদস্যদের শপথ নিয়ে ব্যাখ্যা
সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের শপথ নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতীয় নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ম্যান্ডেট নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। বর্তমানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াতে পারেন। এই প্রেক্ষাপটে, তিনি জানান যে মঙ্গলবার সিইসি সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে মতামত
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যমান সংবিধানে সিইসির সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ পড়ানোর এখতিয়ার নেই। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, যদি এই বিষয়টি সংবিধানে ধারণ করা হয় এবং সংবিধান সংশোধন করা হয়, তাহলে কে শপথ পাঠ করাবে তা নির্ধারিত হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ হতে পারে। এই প্রক্রিয়াটি আইনি ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
দেশের চ্যালেঞ্জ নিয়ে মন্তব্য
বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের বিভিন্ন বিভাগে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, অর্থনীতি, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ দেশের সব ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। তিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও মন্ত্রিসভার কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। চৌধুরী জোর দিয়ে বলেন, এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও যোগ করেন যে, 'ছায়া মন্ত্রিসভা' গঠনের সিদ্ধান্তটি বিরোধী দলের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা সরকারের নীতিমালা ও কার্যক্রমের উপর নজরদারি বাড়াতে সহায়ক হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এই পদক্ষেপটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
এই ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে এটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক গতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। বিএনপির এই অবস্থানটি দলীয় নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রতিফলিত করে বলে বিশ্লেষকরা মত দেন।
