পিরোজপুরে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বিএনপির দুই নেতা গুরুতর আহত
পিরোজপুর সদর উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় বিএনপির দুই নেতাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল রোববার রাত ১১টার দিকে উপজেলার পারেরহাট চালনা সেতু সংলগ্ন ইন্দুরকানী সীমান্তবর্তী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ হামলা সংঘটিত হয়।
আহত নেতাদের পরিচয়
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন হলেন পিরোজপুর সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মহিউদ্দিন মল্লিক। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আলমগীর হোসেনের ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অপর আহত ব্যক্তি হলেন তাঁর ভাতিজা রিয়াজ উদ্দিন মল্লিক, যিনি সদরের শংকরপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
হামলার বিস্তারিত বর্ণনা
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, রাতে শহর থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৮ থেকে ১০টি মোটরসাইকেল নিয়ে দুর্বৃত্তদের একটি দল দুই নেতার গতিরোধ করে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের ওপর নির্মম হামলা চালানো হয়। এতে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখমের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় লোকজন দ্রুত সাড়া দিয়ে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরবর্তীতে তাদের অবস্থার অবনতি ঘটায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসা ও পুলিশের তদন্ত
পিরোজপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রাজীব পাইক জানান, আহত দুজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর জখম রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন জাহান বলেন, ‘ঘটনার সংবাদ পেয়ে আমরা হাসপাতালে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।’
এই ঘটনা নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্ন তুলছে। স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে।
