দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি দিনাজপুর-৬ আসনে জয়ের মুখ দেখেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনের হাত ধরেই হারানো আসনটি দীর্ঘদিন পর ফিরে পেয়েছে দলটি। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে পরিচিত।
নির্বাচনী ফলাফলের বিস্তারিত
দিনাজপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন ২ লাখ ৫ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৭০৩ ভোট। এই ব্যবধান ১৪ হাজার ৪১৫ ভোট। দিনাজপুর-৬ আসনের ২০০টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯৩।
ঐতিহাসিক পটভূমি
দিনাজপুরের বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে বিএনপি সর্বশেষ জয় পেয়েছিল ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে। ওই সময় বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ আতিউর রহমান ২৩ হাজার ৭২২ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুস সামাদকে পরাজিত করেন। এরপর দীর্ঘ ৪০ বছর এই আসনটিতে বিএনপি আর জয়ের মুখ দেখেনি। পরবর্তীতে আসনটিতে ২ বার জামায়াতে ইসলামী, একবার ন্যাপ এবং বাকি সময়টিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়ে এসেছেন।
মানবিকতার মাধ্যমে ভোটারদের মন জয়
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডা. জাহিদ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সেবা করে আসছেন। নির্বাচনী প্রচারণার ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি একজন চিকিৎসক হিসেবে সাধারণ রোগীদের সেবা দিতে কার্পণ্য করেননি। তার এই মানবিক দৃষ্টান্ত স্থানীয়দের মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভোটার বলেন, "শুধু ভোট দিলেই উন্নয়ন হয় না, যারা মানুষের পাশে থাকে, দুঃসময়ের পাশে দাঁড়ায়, তার হাতেই আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ তুলে দিতে চাই। এবারের নির্বাচনে আমরা প্রতিশ্রুতির বাণী না শুনে সেই কাজটিই করেছি।"
স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য
বিরামপুর পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবীর বলেন, "নির্বাচনী প্রচারণাকালে ব্যস্ততার মাঝেও ডা. জাহিদ হোসেন রোগী দেখেছেন, মানুষের চিকিৎসা দিয়েছেন। কোনো মানুষ অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়ামাত্রই তিনি ছুটে গিয়ে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন। তার এই মানবিক উদ্যোগ এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।"
ডা. জাহিদ হোসেনের ভূমিকা শুধু রাজনৈতিক প্রচারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি একজন চিকিৎসক হিসেবে তার পেশাগত দায়িত্বও অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন। এই সমন্বয় তাকে ভোটারদের কাছে বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য করে তোলে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
দীর্ঘ ৪০ বছর আওয়ামী লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাপের দখলে থাকা দিনাজপুর-৬ আসনে বিএনপির এই জয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য উল্লেখযোগ্য। এটি প্রমাণ করে যে, স্থানীয় পর্যায়ে সেবামূলক কাজ ও মানবিক ভূমিকা ভোটারদের মন জয় করতে পারে। ডা. জাহিদ হোসেনের বিজয় কেবল একটি রাজনৈতিক সাফল্যই নয়, বরং জনসেবার গুরুত্বকেও তুলে ধরে।
এই নির্বাচনী ফলাফল বিএনপির জন্য একটি মনোবলবর্ধক অর্জন হিসেবে কাজ করবে। দলটি দীর্ঘদিন পর একটি ঐতিহ্যবাহী আসন ফিরে পেয়ে উল্লাসিত। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিকল্পনায় এই সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
