লক্ষ্মীপুরে বিএনপির দুই কর্মী গ্রেফতার: এমপির নির্দেশে হামলা-চাঁদা মামলায় অভিযুক্ত
লক্ষ্মীপুরে বিএনপির দুই কর্মী গ্রেফতার: এমপির নির্দেশে মামলা

লক্ষ্মীপুরে বিএনপির দুই কর্মী গ্রেফতার: এমপির নির্দেশে হামলা-চাঁদা মামলায় অভিযুক্ত

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের নির্দেশে হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপির দুই কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিস্তারিত ও অভিযোগ

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার রামগতি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন বাদী হয়ে ২৩ জনের নামে এবং উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মমিন উল্লাহ ইরাজ বাদী হয়ে ৩ জনের নামে আলাদা দুটি মামলা দায়ের করেন। এসব মামলায় মোট ৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপির দুই কর্মী মিরাজ উদ্দিন ও রিয়াজ উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা উভয়েই চরগোসাই গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলার বাদী মমিন উল্লাহ ইরাজ বলেন, তার দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তরা হলেন মো. রাব্বি, মো. রায়হান ও মো. আশিক, যারা চরআলগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, বাদী সিরাজ উদ্দিনের মামলায় প্রথম আসামি হাজী বেলাল উদ্দিন চররমিজ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং তৃতীয় আসামি শাহরিয়ার হান্না রামগতি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি হিসেবে উল্লেখিত। অন্যান্য অভিযুক্তরা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের প্রকৃতি ও পুলিশের বক্তব্য

অভিযোগ অনুযায়ী, এই নেতাকর্মীরা কয়েকটি ইটভাটায় গিয়ে মালিকদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেছেন এবং ভাটা শ্রমিকদের মারধর ও হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, "হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপি নেতারা আলাদা দুইটি মামলা করেছেন। এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।"

এমপির ভূমিকা ও বক্তব্য

এদিকে, লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান নির্বাচিত হওয়ার পরপরই মাদক ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তিনি ফেসবুকে পোস্ট করে মামলার এজাহারের একটি কপি শেয়ার করেন এবং লিখেন, "তারেক রহমানের জিরো টলারেন্স নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে রামগতি উপজেলায় দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগে ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে।" এই পদক্ষেপটি তার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গ্রেফতারকৃত দুই কর্মীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন এবং মামলার অন্যান্য আসামিদের খুঁজে বের করতে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন।