বিএনপি আনুষ্ঠানিক গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত শপথ নেবেন না এম এ হান্নান
বিএনপি গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত শপথ নেবেন না হান্নান

বিএনপি আনুষ্ঠানিক গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত শপথ নেবেন না এম এ হান্নান

চাঁদপুর-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এম এ হান্নান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন না। তিনি দলীয় আদর্শ ও রাজনীতির প্রতি আজীবন অঙ্গীকার অটুট রাখার কথা উল্লেখ করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে হান্নানের বক্তব্য

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এম এ হান্নান তার অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, "বিএনপি আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ না করা পর্যন্ত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করব না।" হান্নান আরও যোগ করেন, ছাত্রজীবন থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে তিনি বিএনপির রাজনীতি করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও তা চালিয়ে যাবেন।

কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

হান্নান একটি কুচক্রী মহল-এর বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুলে বলেন, অতীতে এই মহল তার দলীয় মনোনয়ন বাতিল করতে ভূমিকা রেখেছিল। এবারও একই ধরনের ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে ফরিদগঞ্জের জনগণ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ সমর্থনের কারণে তিনি জনগণের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমি কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করিনি। নির্বাচন করেছি একটি জনবিচ্ছিন্ন চক্রের বিরুদ্ধে।" হান্নান আরও উল্লেখ করেন, পরাজিত পক্ষ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সহিংসতা ও অপপ্রচারে জড়িয়েছে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা বলে তিনি মনে করেন।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ

এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফরিদগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদ, বিএনপি নেতা সফিউল আলম বাশার মুকুল পাটওয়ারী, এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন প্রমুখ। তাদের উপস্থিতি এই ঘটনাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

এম এ হান্নানের এই সিদ্ধান্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। তার অবস্থান দলীয় আনুগত্য ও ব্যক্তিগত নীতির মধ্যে একটি জটিল ভারসাম্য প্রতিফলিত করে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে আলোচনার সৃষ্টি করতে পারে।