বিএনপির 'বিদ্রোহী' আবদুল হান্নান: দল না গ্রহণ করলে শপথ নেব না
ফরিদগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী মো. আবদুল হান্নান ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর প্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না। শনিবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভের মাত্র দুই দিন পর তিনি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
দলীয় আদর্শের প্রতি অঙ্গীকার
আবদুল হান্নান বলেন, 'আমার প্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ না করা পর্যন্ত আমি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেব না। দলীয় আদর্শ ও রাজনীতির প্রতি আমার আজীবনের অঙ্গীকার অটুট থাকবে।' তিনি ছাত্রজীবন থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে বিএনপির রাজনীতি করে আসছেন এবং আমৃত্যু তা চালিয়ে যাবেন বলে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দল-মতনির্বিশেষে তাঁকে নির্বাচিত করায় ফরিদগঞ্জবাসী, স্থানীয় প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।
মনোনয়ন নিয়ে বিতর্ক
আবদুল হান্নান বলেন, 'আমি এর আগে দুবার এ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছি। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল আমার মনোনয়ন ছিনিয়ে নেয়। এবার আমি মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়ায় দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা আমাকে নির্বাচনে অংশ নিতে চাপ সৃষ্টি করেন।'
তিনি দাবি করেন, এবার তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে নির্বাচন করেননি, বরং ফরিদগঞ্জের একটি জনবিচ্ছিন্ন ও কুচক্রী মহলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছেন, যারা অতীতে তাঁর দলীয় মনোনয়ন বাতিলে ভূমিকা রেখেছিল।
সহিংসতা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
আবদুল হান্নান অভিযোগ করেন, নির্বাচনে পরাজিত একটি পক্ষ এখন এলাকায় সহিংসতা ও অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। তিনি প্রশাসনের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জনগণের জানমালের ক্ষতি হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। একই সঙ্গে তিনি তাঁর নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দেন।
এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আবদুল হান্নান তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, যা ফরিদগঞ্জের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর এই ঘোষণা জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
