কুষ্টিয়ায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, দুই নেতার পদ স্থগিত
কুষ্টিয়ায় বিএনপির কোন্দলে ধাওয়া, দুই নেতার পদ স্থগিত

কুষ্টিয়ায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী জাকির হোসেন সরকারের নির্বাচনী পরাজয়ের জেরে দলীয় সহযোগী সংগঠনের দুই পক্ষের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে উঠেছে। গতকাল শুক্রবার রাত আটটার দিকে শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত তিনজন নেতা পিটুনির শিকার হন, যা এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে দেয়।

দুই নেতার পদ স্থগিত

এ ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের দপ্তর সম্পাদক শাহারিয়া ইমন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আবদুস সালাম ও কুষ্টিয়া শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ইমতিয়াজ দিবসের পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শী ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনে পরাজয়ের পর নিজ এলাকায় সন্তোষজনক ভোট না পাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে কোর্ট স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। কুষ্টিয়া শহর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ইমতিয়াজ দিবস, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সালাম ও সাবেক ছাত্রদল নেতা সাগীর কোরাইশীর নেতৃত্বে থাকা পক্ষটি জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আরিফুর রহমান, সদস্যসচিব নুরুল ইসলাম ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইসমাইল হোসেনকে ধাওয়া দেন।

পরে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আরিফুর রহমানের সমর্থকেরা পাল্টা মিছিল করে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে কোর্ট স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের ওপর থাকা চায়ের দোকানের কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙচুর করেন। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে হুঁশিয়ারি দিয়ে সড়ক ফাঁকা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বৈঠকেও সমাধান হয়নি

রাত ১০টার দিকে মজমপুর রেলগেটের রাজ্জাক তেলপাম্পের পাশে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো ফলপ্রসূ সমাধান না হওয়ায় সেখানে আবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবাইকে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করে, যা দলীয় সংঘাতের গভীরতা নির্দেশ করে।

নেতাদের বক্তব্য

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে বিএনপির পরাজিত প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার বলেন, "নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় কয়েকজন নেতাদের মধ্যে একটু ঝামেলা হয়েছে। সেগুলো নিরসনের চেষ্টা চলছে। সবার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হবে।"

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বার বলেন, "বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতি লক্ষ্য করে উভয় পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।"

এই ঘটনা কুষ্টিয়ায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও নির্বাচন পরবর্তী উত্তেজনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।