নির্বাচন শেষ হতেই সাভারে চাঁদাবাজি, গণধোলাইয়ের ভিডিও ভাইরাল
সারাদেশে নির্বাচন শেষ হতে না হতেই পরিবহণ খাতে চাঁদাবাজির ঘটনা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সাভারের আশুলিয়া এলাকায় যাত্রীবাহী পরিবহণগুলো থেকে চাঁদা নেওয়ার সময় একটি অপ্রীতিকর ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, বেশ কিছু যুবক নিজেদের বিএনপির কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে চাঁদা চাইলে স্থানীয় জনগণ তাদের ধাওয়া দেয় এবং একজনকে গণধোলাই দেয়। এ সময় অন্যান্য চাঁদাবাজরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
স্থানীয়দের বর্ণনায় ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সোহাগ পরিবহনের একটি বাস থেকে জোরপূর্বক চাঁদা নেওয়ার সময় বাসের চালক ও হেলপাররা প্রতিবাদ জানালে যুবকরা নিজেদের বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। এ সময় বাসের যাত্রীরাও নেমে এসে তাদের আটকের চেষ্টা করলে কয়েকজন পালিয়ে যায়। পরে তাদের এক পাতি নেতাকে জনতা উত্তম মাধ্যম দিয়ে পুলিশে খবর দেয়। এই ঘটনায় আশুলিয়া এলাকার পরিবহণ সেক্টরে হঠাৎ করেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
পুলিশের তৎপরতা ও প্রতিক্রিয়া
ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে আশুলিয়া পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতরা পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার ওসি রুবেল হাওলাদার রাত ১০টায় সাংবাদিকদের বলেন, "রাতে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কে এ ধরনের একটি খবর পাওয়ার পর আমি দ্রুত পুলিশ ফোর্স পাঠাই। কিন্তু চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এলাকার বিএনপি নেতারাও এই যুবকদের চেনেন না বলে জানিয়েছেন, যা ঘটনাটির পিছনে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
ভিডিও ভাইরাল ও প্রশাসনের পদক্ষেপ
এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হওয়ার পর প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চাঁদাবাজদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হবে। আশুলিয়া থানা থেকে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে, যারা এলাকায় নজরদারি বাড়িয়ে এই ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।
এই ঘটনা দেশব্যাপী নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সদস্যরা যাতে অপপ্রচার বা অপরাধমূলক কাজে জড়িত না হয়, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। আশুলিয়ার এই ঘটনা একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে, যা প্রশাসনকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনে উদ্বুদ্ধ করবে।
